মুসাকে দিয়ে স্ত্রী মিতুকে ‘খুন’ করান বাবুল

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের নির্দেশেই তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে কামরুল শিকদার ওরফে মুছার নেতৃত্বে হত্যা করা হয়েছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেন এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা।

এদিন ভোরে এহতেশামকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে বিকেলে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে জবানবন্দি দেন তিনি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে এহতেশাম বলেন, বাবুল আক্তার ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তার সোর্স ছিলেন কামরুল শিকদার ওরফে মুছা। কামরুলের সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় ছিল এহতেশামের। এহতেশামের বিরুদ্ধে পুলিশের খাতায় মামলা রয়েছে ২০টি। কামরুল এহতেশামকে বাবুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এর পর থেকে বাবুলকে বিভিন্ন তথ্য দিতেন এহতেশাম। নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় গুলি করতে যাওয়া এক ব্যক্তির তথ্য বাবুলকে দেন এহতেশাম। ওই ঘটনার আসামি ধরে বাবুল বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। পরে বাবুলের নির্দেশে কামরুলকে এহতেশাম তার বালুর ব্যবসায় ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেন।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে কামরুল এহতেশামকে বলেন, স্যার (বাবুল) পারিবারিক সমস্যায় আছেন, তার স্ত্রীকে খুন করতে হবে। এ জন্য এহতেশাম যাতে অস্ত্র সংগ্রহ করে দেন। তখন এহতেশাম পারিবারিক বিষয়ে না জড়াতে কামরুলকে অনুরোধ করেন। কামরুল বিষয়টি বাবুলকে জানিয়ে দেন। পরে বাবুল এহতেশামকে ডেকে পাঠান। বিষয়টি তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে জানালে ঝামেলা হবে বলে হুমকি দেন। এরপর বিষয়টি কাউকে বলেননি এহতেশাম।

জবানবন্দিতে এহতেশাম বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করে দেন তিনি। কামরুলও শুরুতে রাজি ছিলেন না। তাকে এ কাজ না করলে ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দিয়েছিলেন বাবুল। যার কারণে কামরুল রাজি হন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা শনিবার রাতে বলেন, জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামি এহতেশামকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদাতা কামরুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


আরও পড়ুন