বিনোদন - November 7, 2021

শাহরুখপুত্রের মামলার তদন্তে নতুন মোড়

বলিউড কিং শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের মাদক মামলা নিয়ে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন মোড় নিচ্ছে। এবার বিস্ফোরক এক দাবি করলেন বিজয় পাগাড়ে নামে মামলার এক সাক্ষী। মামলায় গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) কাছে তিনি দাবি করেছেন, বিপুল টাকা আদায়ের জন্য পরিকল্পিতভাবে আরিয়ানকে ফাঁসানো হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে সুনীল পাটিলের নামও তুলেছেন বিজয়।

ভারতের পত্রিকা আনন্দবাজার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা মোহিত কম্বোজ অভিযোগ করেছিলেন, আরিয়ান মাদক কাণ্ডের পেছনে মূল ষড়যন্ত্রকারী ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) ঘনিষ্ঠ সুনীল। সাক্ষী বিজয়কে জেরার সময় তিনি সুনীলের নাম করেছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। আরও রয়েছেন মনিশ ভানুশালী নামে বিজেপির ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি।

বিজয় পাগাড়ে জানান, ২০০৮ সাল থেকে পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষ্যে সুনীলকে অনুসরণ করা শুরু করেন তিনি। সুনীলের সঙ্গে তিনি আহমেদাবাদ, সুরত ও মুম্বাই গিয়েছিলেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে মুম্বাইয়ের এক হোটেলে ছিলেন সুনীল। সুনীল তাকে জানিয়েছিলেন, ‘একটা বড় কাজ পেয়েছি। আপনার টাকা ফিরিয়ে দেব।’

বিজয় জানান, মুম্বাইয়ে ওই হোটেলেই আরিয়ান মামলার আরেক সাক্ষী কেপি গোসাভি নামেও একটি রুম বুক করা হয়েছিল। প্রমোদতরীতে মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এনসিবি) অভিযান চালানোর কয়েক দিন আগে ওই হোটেলেই সুনীল, গোসাভির সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি নেতা মনিশ ভানুশালী। সেখানে বসেই তারা আরিয়ানকে ফাঁসানোর ছক আঁকেন।

বিজয়ের ভাষ্য, ‘আমিও ওই হোটেলে তাদের তিনজনকে একসঙ্গে দেখতে পাই। সে সময় সুনীল ও মনিশের কথোপকথন শুনতে পাই। তারা বলছিলেন, বড় কাজ হয়ে গেছে। আহমেদাবাদের উদ্দেশে রওনা হতে হবে। তবে পাগাড়েকে সঙ্গে নিও না।’

বিজয় আরও জানান, ৩ অক্টোবর পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেবেন বলে সুনীল ফের মুম্বাইয়ের সেই হোটেলে আসতে বলেন তাকে। সেখানে মনিশের সঙ্গে দেখা হয় তার। তারপরই তাদের সঙ্গে এনসিবির কার্যালয়ে যান তিনি। রাস্তাতেই মনিশ ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। পূজা, স্যাম ও ময়ূর নামে তিনজনের নাম শুনতে পান মনিশের মুখে।

তার কথায়, ‘এনসিবি কার্যালয়ে পৌঁছতেই দেখি সেখানে সংবাদমাধ্যমের ভিড়। তারপরই শুনতে পাই আরিয়ান খানকে আটক করেছে এনসিবি। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখতে পাই যে, আরিয়ানকে ঘিরে নিয়ে আসছেন মণীশ এবং গোসাভি। তখনই বিষয়টি আমার কাছে পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে এটা পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা।’

আরিয়ানের আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি বিজয়ের। কিন্তু তার কথা শোনা হয়নি। বিজয় বলেন, ‘প্রমোদতরীতে অভিযান চালানোর আগে সুনীল আমাকে বলেছিল “একটা বড় কাজ পেয়েছি। আপনার টাকা ফিরিয়ে দেব।” পরে বুঝলাম কাজটা কী ছিল এবং কীভাবে টাকা এসেছে।’


আরও পড়ুন