কিশোরগঞ্জে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ব্যালট ছিনতাই

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের তিনটি উপজেলার ২৯ ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বাজিতপুর, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলার সবকটি ইউপিতে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের চং নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি স্থগিত করা হয়। এছাড়া নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চারিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, গুণধর ইউনিয়নের গাঙ্গাটিয়া কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষের কারণে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকলেও পরে আবার চালু করা হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে বাজিতপুর উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তিন উপজেলার অন্যান্য কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে অনুষ্ঠিত ২৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ২০ জন, জাতীয় পার্টির ৪ জন ও স্বতন্ত্র ৫ জন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বাজিতপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে সবকটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। করিমগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৬ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন ও স্বতন্ত্র ৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তাড়াইল উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৩ জন, জাতীয় পার্টির ৩ জন ও স্বতন্ত্র ১ জন জয়ী হয়েছেন।

বাজিতপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন হুমাইপুর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম ধনু, দিলালপুর ইউনিয়নে গোলাম কিবরিয়া নোভেল, বলিয়ার্দী ইউনিয়নে আবুল কাসেম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায়), সরারচর ইউনিয়নে হাবিবুর রহমান স্বপন, হালিমপুর ইউনিয়নে উমর ফারুক রাসেল (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায়), হিলচিয়া ইউনিয়নে মাজহারুল হক নাহিদ, দিঘীরপাড় ইউনিয়নে আব্দুল কাইয়ুম, পিরিজপুর ইউনিয়নে জাফর ইকবাল জুয়েল, মাইজচর ইউনিয়নে তাবারক মিয়াজি (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায়), গাজিরচর ইউনিয়নে মো. জুয়েল মিয়া ও কৈলাগ ইউনিয়নে কায়সার এ হাবিব।

করিমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন জাফরাবাদ ইউনিয়নে আবু সাদাৎ মো. সায়েম (আওয়ামী লীগ), গুজাদিয়া ইউনিয়নে সৈয়দ মাসুদ (আওয়ামী লীগ), কিরাটন ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি), কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নে আরিফ উদ্দিন আহম্মেদ কনক (স্বতন্ত্র-বিএনপি সমর্থক), দেহুন্দা ইউনিয়নে এম. এ হানিফ (স্বতন্ত্র-আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী), বারঘরিয়া ইউনিয়নে কামরুল আহসান কাঞ্চন (আওয়াম লীগ), গুণধর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আবু ছায়েম রাসেল (আওয়ামী লীগ), জয়কা ইউনিয়নে হুমায়ুন কবির (স্বতন্ত্র-বিএনপি সমর্থক), নোয়াবাদ ইউনিয়নে মোস্তফা কামাল (স্বতন্ত্র-বিএনপি সমর্থক), সুতারপাড়া ইউনিয়নে একটি কেন্দ্র স্থগিত অবস্থায় এগিয়ে রয়েছেন কামাল হোসেন (আওয়ামী লীগ) ও নিয়ামতপুর ইউনিয়নে আব্দুল হেলিম (আওয়ামী লীগ)।

তাড়াইল উপজেলায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন তালজাঙ্গা ইউনিয়নে আবু জাহেদ ভূঞা (স্বতন্ত্র-আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী), রাউতি ইউনিয়নে ইকবাল হোসেন তারিক (আওয়ামী লীগ), ধলা ইউনিয়নে আফরোজ আলম ঝিনুক (আওয়ামী লীগ), জাওয়ার ইউনিয়নে ইমদাদুল হক রতন (জাতীয় পার্টি), দামিহা ইউনিয়নে এ. কে মাইনুজ্জামান নবাব (আওয়ামী লীগ), দিঘদাইড় ইউনিয়নে আশরাফ উদ্দিন ভূঞা (জাতীয় পার্টি) ও তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নে সাঈম দাদ খান নওশাদ (জাতীয় পার্টি)।


আরও পড়ুন