বালতিতে ১৬ দিনের শিশুর লাশ, মৃত্যুর রহস্য শুনে অবাক পুলিশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঘুমন্ত মায়ের কোল থেকে আয়ান নামে ১৬ দিন বয়সী এক নবজাতককে শৌচাগারে বালতির পানিতে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনার মূল রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ঘটনার দিন শিশুটির মা সাকিলা বেগম সন্তানকে গোসল করাতে গিয়ে অসাবধানতায় হঠাৎ হাত থেকে শিশুটি পানিভর্তি বালতিতে পড়ে যায়। পরে তৎক্ষণাৎ মা শিশুটিকে পানি থেকে তুলে নিয়ে দেখতে পান শিশুটির প্রাণ নেই। এ সময় বাসার কেউ কাছে ছিল না।

তারপর স্বামী ও শাশুড়ির ভয়ে মা শিশুটিকে বালতির পানিতে রেখে রুমে চলে যান। পরে মা সাকিলা নাটক সাজিয়ে বলেন, আমি সন্তানকে কোলে নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। ঘুমন্ত অবস্থায় কে বা কারা আমার সন্তানকে কোল থেকে নিয়ে বালতির পানিতে ফেলে দেয়।

মঙ্গলবার রাতে পুলিশের কাছে শিশুটির বাবা-মা এভাবেই ঘটনাটির বিবরণ দিয়েছেন। ঘটনার বিবরণ শুনে পুলিশ অবাক হয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে জেলার ভৈরব শহরের কালিপুর এলাকায়। শিশুটির মায়ের নাম সাকিলা বেগম ও বাবার নাম ইদ্রিছ মিয়া। শিশু আয়ান ইদ্রিস মিয়া ও সাকিলা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।

এ ঘটনার পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে এবং ওই দিনই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার ৫ দিন পর মঙ্গলবার রাতে শিশুটির মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়। এ সময় শিশুটির বাবা ইদ্রিছ মিয়া বলেন- আমার স্ত্রীর ভুলের কারণে আমার সন্তান মারা গেছে। সে ভয়ে এদিন সত্য কথা বলেনি। পরে সে আমাকে জানায় শিশুটিকে গোসল করানোর সময় অসাবধানতাবশত বালতির পানিতে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। এ সময় থানায় স্বামীর সঙ্গে তার স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

ওসি বলেন, আমি দুজনের কথা শুনে হতবাক হয়েছি। তবে শিশুটিকে মা হত্যা করেনি একথা সত্য।


আরও পড়ুন