সিরিজ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ

ম্যাচের পিচ বদলালেও বদলায়নি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ধরন। চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় আগের দিনের চেয়ে কম রানের গুটিয়ে যায় টাইগাররা। আর মাহমুদউল্লাহদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। টানা তিন সিরিজ জয়ের পর এবার হারের মুখ দেখলো লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

আজ শনিবার বিকেলে হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ৮ উইকেট হাতে রেখে সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের দেওয়া ১০৯ রানের লক্ষ্য ১১ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাবর আজমরা। ব্যাট হাতে ৫১ বলে ২ চার ও তিন ছয়ে ৫৭ রানে অপরাজিত ছিলেন ফখর জামান।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। মাত্র ১২ রানের মাথায় ওপেনার বাবর আজমকে হারায় তারা। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে বিশ্বসেরা এই ব্যাটারকে বোল্ড করে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। পাঁচ বলে মাত্র ১ রান করেন তিনি। শুরুতে ব্রেক থ্রু আসলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে জুটি গড়েন ফখর জামান।

গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পাকিস্তানের রানের চাকা সচল রাখেন ফখর। রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ৮৫ রানের জুটি গড়েন ফখর। দলীয় ৯৭ রানের মাথায় রিজওয়ানকে ফেরান আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। অবশ্য দুই বল আগেই ফেরাতে পারতেন এই লেগ স্পিনার। কিন্তু শর্ট ফাইন লেগ থেকে তার ক্যাচটি হাতছাড়া করেন তাসকিন। তবে জীবন পেয়ে কাজে লাগাতে পারিননি এই ওপেনার। ৪৫ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন তিনি।

ব্যক্তিগত ২৬ রানের মাথায় সাইফ হাসানের কাছ থেকে জীবন পেয়ে ব্যক্তিগত অর্ধশতক করেন তিনি। তার অপরাজিত ৫৭ রানের সুবাধে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতে নেয় পাকিস্তান।

এর আগে, টসে জিতে ব্যাট করতে আসেন ওপেনার নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান। তবে সেই চিরচেনা রূপ রয়ে গেল। ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে গেল সাইফ। ইনিংসের পঞ্চম বলে গোল্ডেন ডাকে এই ওপেনারকে ফেরান শাহীন শাহ আফ্রিদি। ওপর ওপেনার নাঈম শেখও মাত্র ৮ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

শুরুতে দুই ওপেনারকে হারানোর পর তিনে আসা নাজমুল হোসেন শান্তের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এই যুগলের ব্যাটে শুরুর চাপ কাটিয়ে উঠে টাইগাররা। কিন্তু আফিফের উইকেট বিলিয়ে দেওয়াতে ৪৬ রানের এই জুটি থামান শাদাব খান। এই লেগ স্পিনার বল করার আগে রিভার্স সুইপের পজিশনে চলে যান আফিফ। কিন্তু বলটি একটু টেনে ডেলিভারি দেন শাদাব। তাতেই বল আফিফের ব্যাট ছুঁয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসবন্দি হয়।

এক পাশ আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন শান্ত। বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেলেন তিনি। তাকে কিছু সময় সঙ্গ দেওয়া অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও ফেরেন নিজের ভুলে। হারিস রউফের বল তার ব্যাটের কানায় লেগে রিজওয়ানের গ্লাভসে জমা পড়ে। তাতেই ১৩ বলে ১২ করে প্যালিভিয়নে ফেরেন টাইগার কাপ্তান।

দলীয় ৮২ রানের মাথায় থিতু ব্যাটসম্যান শান্তকে সাজঘরে ফেরান শাদাব খান। ৩৪ বলে পাঁচ চারে ৪০ রান করে কট অ্যান্ড বোল্ড হন তিনি। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে এসে সুবিধা করতে পারেননি আগের দিন দলকে এগিয়ে নেওয়া শেখ মেহেদী। ৮ বলে মাত্র তিন রান করে মোহাম্মদ নাওয়াজের শিকার হন তিনি।

শেষের দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে বাংলাদেশের। তাতে রানের গতি অনেকখানি থমকে যায়। নুরুল হাসান সোহানও ফেরেন মাত্র ১১ রান করে।


আরও পড়ুন