মেয়াদ শেষে পদে থাকতে পারবেন না জেলা পরিষদ প্রতিনিধিরা

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কোনো অজুহাতে তাদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আর পদে থাকতে পারবেন না। সোমবার এ বিধান রেখে ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২১’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

একই সঙ্গে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে নির্বাচন না হলে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে সংশোধিত আইনে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ভার্চুয়ালি সভায় অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘গত দুটি ক্যাবিনেট মিটিংয়ের আগে স্থানীয় সরকার থেকে একটা আইন নিয়ে আসা হয়েছিল। সেটা ছিল পৌরসভা আইন। আগের আইন অনুযায়ী বিধান ছিল, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পরিষদ না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভার মেয়র কন্টিনিউ করবেন। তাই দেখা গেছে, মামলা-মোকাদ্দমার কারণে পৌরসভায় একেকজন ১৪/১৫ বছর চেয়ারম্যান থাকতেন। জেলা পরিষদেও এই বিধান ছিল।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটাও স্থানীয় সরকার বিভাগ নিয়ে আসছে, যে না, এটাও ওই পৌরসভা অ্যাক্টের মতো মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যতদিন পরিষদ গঠিত না হবে সরকার প্রশাসক দিয়ে রাখতে পারবে।’

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘সদস্যদের ক্ষেত্রে একটু পরিবর্তন আনা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদের সদস্য হবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অবজার্ভিং মেম্বার হবেন। বোর্ডটা রিভাইস করার সুপারিশ করা হয়েছে।’

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সনদ ছাড়া কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন করলে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এতদিন আমাদের সিনেমাগুলো অনুমোদন করা হতো সেন্সরসিপ অব ফিল্ম অ্যাক্ট-১৯৬৩ এবং ১৯৭২ সালে একটি অ্যামেনমেন্ড করা ছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে আইনটিকে সংশোধন করা হয়েছিল।

তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে এটাকে মোডিফিকেশন করা হয়েছে যে, আইনটি সেন্সরশিপ আইন না হয়ে সার্টিফিকেশন আইন হওয়া উচিত। তার একটা পার্ট থাকবে সেন্সর। শুধু সেন্সর থাকলে এখানে অন্য রকম অসুবিধা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এখন সার্টিফিকেশন আইন। সার্টিফিকেশন আইনে গেলে সেখানে সেন্সর একটা পার্ট থাকবে। সেজন্য উনারা একটা অ্যামেনমেন্ড নিয়ে এসেছিলেন। এখানে খুব বেশি বা ম্যাসিভ কোনো চেঞ্জ হয়নি। সেন্সরশিপ যে আইনটি ছিল, তার সঙ্গে কিছু কিছু যোগ করে এ আইনটা নিয়ে আসা হয়েছে।

শাস্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি সার্টিফিকেশনবিহীন কোনো চলচ্চিত্র বা প্রতীকবিহীন কোনো সার্টিফিকেশন পাওয়া চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন তাহলে সে অপরাধে তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদন্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। আর কোনো ব্যক্তি যদি কোনো চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর কোনো টেম্পারিং করেন, অনেক সময় যে সিনগুলো সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত না বা সেন্সর না সেগুলো যোগ করেন, তাহলে দুই বছরের কারাদন্ড অথবা দুই লাখ টাকা জরিমানা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বোর্ডে আগের মতোই একজন চেয়ারম্যান থাকবেন। ১৪ জন সদস্যসহ মোট ১৫ জনের একটি বোর্ড থাকবে, যারা সার্টিফিকেট দেবে। চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্যায়ন পদ্ধতি করা হবে। সেটি বিধি নিয়ে নির্ধারণ করা হবে। সাত সদস্যের একটি আপিল বোর্ড থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আগের মতোই মন্ত্রিপরিষদ সচিব সভাপতি থাকবেন।


আরও পড়ুন