করিমগঞ্জ - December 2, 2021

করিমগঞ্জে ১ ভোট সম্বল নিয়ে দুই দুইবার মেম্বার

২য় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে করিমগঞ্জের গুজাদিয়ায় ১ ভোট নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেম্বার পদে নির্বাচিত হয়েছেন পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ লিটন মিয়া।

জানা যায়, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেকে প্রায় একশত ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। টিউবয়েল প্রতীকে তিনি পান ৭৫২ ভোট আর ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোঃ শামীম পান ৬৫৬ ভোট। তাঁকে ভোট দিয়ে ২য় মেয়াদে নির্বাচিত করায় এলাকাবাসীর প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই জনপ্রতিনিধি।

এসময় তিনি দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, আমি জনগণের আস্থার মর্যাদা দিয়ে এলাকার উন্নয়ন করবো। গুজাদিয়াকেই ভালোবেসে পৌর এলাকা ছেড়ে ৯নং ওয়ার্ড (রামনগর, আতকাপাড়া, ঢালারপাড়) এই তিন গ্রামের সর্বসাধারণের সেবা করতে এসেছি।

উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধির পরিবার-পরিজন, এমনকি নিকট আত্মীয় স্বজনেরাও পৌর এলাকার ভোটার। তাঁর একটিমাত্র ভোট নিয়ে বিগত ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গুজাদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে টিউবয়েল প্রতীকে মেম্বার পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং এ ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হেভিয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবুল মেম্বারকে নির্বাচনে পরাজিত করে তরুন বয়সেই তিনি প্রথমবার মেম্বার পদে নির্বাচিত হন। পরে ইউনিয়নের অন্যসব মেম্বারদের চেয়ে অধিকতর বুদ্ধিদীপ্ত ও বিচক্ষণ হওয়ায় তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। পরে ২০১৮ সালের শেষের দিকে পরিষদ থেকে বিশেষ ছুটি নিয়ে পারিবারিক কাজে তিনি বিদেশ চলে যান। তার ব্যক্তিগত জটিলতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে তিনি দায়িত্বে ফিরে আসতে না পারায় স্থানীয় সরকার (ইউপি) বিধিমালা অনুযায়ী এ আসনটি শূন্য ঘোষনা করা হয়। পরে উপ-নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে মাহাবুব আলম মেম্বার পদে নির্বাচিত হন। এ বছরের প্রথমদিকে সাবেক এই জনপ্রতিনিধি এলাকায় ফিরে আসেন এবং যথারীতি ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে একই ওয়ার্ড থেকে আবারও টিউবয়েল প্রতীকে মেম্বার পদে নির্বাচনে অংশ নেন। এবারও তিনি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

দ্বিতীয়বার নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত মেম্বার মোঃ লিটন বলেন, আমার অবর্তমানে এ ওয়ার্ডে চরম নেতৃত্বশূণ্যতা দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী প্রতিদিন আমাকে ফোনে জানাতো এবং আমাকে দেশে ফিরে আসতে এলাকাবাসীর প্রবল চাপ অব্যহত ছিল। তাই এলাকাবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসার টানে আবারও তাদের মাঝে ফিরে এসেছি।

তিনি বলেন, আমার চাচা আব্দুল আজিজ এই গুজাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি সুখে দুঃখে এ ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের আস্থার প্রতীক ছিলেন । তাই তারা চাচার মতো আমার উপর আস্থা রেখেছেন। আমিও তাদের আস্থার প্রতিদান হিসেবে সুখে-দুঃখে সবসময় ভালোবাসার এই মানুষগুলোর সাথে থাকবো।


আরও পড়ুন