দেশের খবর - December 7, 2021

এইচএসসি পাস করেই এমবিবিএস ডাক্তার

নিজে এইচএসসি পাস হলেও সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ডে এমবিবিএস পাস লিখে দিব্যি করে যেতেন ডাক্তারি। অবশেষে স্থানীয়দের হাতে আটক হলে ফাঁস হয়ে যায় গোমড়। স্বীকার করেন, এইচএসসি পাসের পরে আল্টা মেডিসিন কোর্স করে পুরো দস্তুর চিকিৎসক বনে যান।

প্রতারণার প্রমাণ পেয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার রফিকুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের করাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে যে ফার্মেসিতে চেম্বার ছিল সেই ফার্মেসিকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দরে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি জানান, স্থানীয়রা খবর দিলে ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম প্রিন্সকে পাঠানো হয়। সেখানে স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার করায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতারকের নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি টরকি বন্দরের নীলখোলা নামক এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম শেরপুর সদরের চরমুচারিয়া গ্রামের আলহাজ আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে।

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স টরকী বন্দরের আনোয়ারা মেডিকেল হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এর আগে স্থানীয়রা রফিকুল ইসলামকে তার ডাক্তারি সার্টিফিকেট আছে কীনা জানতে চাইলে রহস্যজনক আচরণ করেন এবং পালানোর চেষ্টা করেন।

এসময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পাঠালে সেখানে দোষ স্বীকার করেন রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামের পাশাপাশি আনোয়ারা মেডিকেল হলের স্বত্তাধিকারী শহিদুল্লাহকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ও সাইনবোর্ডসহ প্যাডে এমবিবিএস চিকিৎসক লিখে টরকী বন্দরে আনোয়ারা মেডিকেল হলে দীর্ঘদিন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। এছাড়া খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই বাজারের সেবা মেডিকেল হল নামে আরো একটি চেম্বারে রোগী দেখতেন তিনি। সেখানেও তিনি ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষের চিকিৎসার নামে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এইচএসসি পাস করার পর আল্টা মেডিসিন কোর্স সম্পন্ন করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছি। এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করা আমার উচিত হয়নি।


আরও পড়ুন