কিশোরগঞ্জে বিদ্রোহীতেই ডুবল নৌকা

কিশোরগঞ্জে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহীদের কারণে নৌকা ডুবেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলের বিদ্রোহীদের কারণে পরাজয়ের শঙ্কা ছিল আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের। অবশেষে সে শঙ্কাই সত্যি হলো। তিন উপজেলার ২২ ইউপির ১৩টিতে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

রোববারের নির্বাচনে জেলার কটিয়াদী, হোসেনপুর ও ভৈরব উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা জয় পেয়েছে মাত্র ৯টিতে। বাকি ১৩টিতে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে ভরাডুবি হয়েছে কটিয়াদী উপজেলায়, সেখানে ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ জিতেছে দুটিতে।

হোসেনপুরে স্বতন্ত্র ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের নির্বাচনী ম্যাচ ড্র হয়েছে। এ উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়নের তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও আর বাকি তিনটিতে অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। শুধু ভৈরবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। সেখানে সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের চারজন ও স্বতন্ত্র তিনজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ না করায় আওয়ামী লীগের সামনে সবগুলোতে জয়ের বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রায় প্রতিটি ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দল মনোনীত প্রার্থীরা বেকায়দায় পড়ে যান।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, ইউপি নির্বাচনে দল থেকে প্রার্থী ঠিক করে দেওয়া হলেও স্থানীয় অনেক নেতাই তা মেনে নেননি। তাঁরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এতে দলীয় প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। যে সব ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন তার সব কটিতেই হয় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন, নয়তো বিদ্রোহীরা ভোট টানায় জিততে পারেননি নৌকার প্রার্থী।

নির্বাচনে হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে আব্দুল কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৫০৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাঞ্চন মিয়া পেয়েছেন ৪৭৬৭ ভোট। জিনারী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজহারুল ইসলাম (ঘোড়া) ৪১০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহজাহান সরকার (আনারস) পেয়েছেন ৩১৬৩ ভোট।

সিদলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত কামরুজ্জামান কাঞ্চন (নৌকা) ১১ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কফিল উদ্দিন (আনারস) পেয়েছেন ৫১৬১ ভোট। গোবিন্দপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (নৌকা) ১০ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম (আনারস) পেয়েছেন ৬৫৮৮ ভোট।

আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী খুর্শিদ উদ্দিন (আনারস) ৩৫৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত মোছলেহ উদ্দিন (নৌকা) পেয়েছেন ৩২৪৮ ভোট। সাহেদল ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ উদ্দিন (আনারস) ৭৫৯৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত শাহ মাহবুবুল হক (নৌকা) পেয়েছেন ৫৫১০ ভোট।

কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিউর রহমান (ঘোড়া) ৬৫৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত এ. কে. এম. এম মুর্শেদ (নৌকা) পেয়েছেন ৪৯৬১ ভোট। করগাঁও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাদিম মোল্লা (চশমা) ৬২৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত বেলায়েত হোসেন (নৌকা) পেয়েছেন ৫৯৫৩ ভোট। মুমুরদিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলা উদ্দিন সাবেরি (মোটরসাইকেল) ৭২১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত তরিকুল ইসলাম (নৌকা) পেয়েছেন ৫৪১২ ভোট।

মসূয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক (আনারস) ১০ হাজার ৮২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত আল আমিন (নৌকা) পেয়েছেন ৭৬৬৭ ভোট। লোহাজুড়ি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হায়দার মারুয়া (ঘোড়া) ৭৬৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত আতাহার উদ্দিন ভূইয়া (নৌকা) পেয়েছেন ৪৬৭০ ভোট। জালালপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল আলম (চশমা) ৫৫৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মতিউর রহমান (টেবিল ফ্যান) পেয়েছেন ২৪৫৩ ভোট। বনগ্রাম ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন (আনারস) ৮৮৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল্লাহ জামান সরকার (চশমা) পেয়েছেন ৬৪৪৭ ভোট।

সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল কাসেম আকন্দ (নৌকা) ৫৭১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বাবলু (আনারস) পেয়েছেন ৫৫৩৪ ভোট। চান্দপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত মাফুজুর রহমান (নৌকা) ৮০৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহতাব উদ্দিন (আনারস) পেয়েছেন ৫৮৩৯ ভোট।

ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন অর রশিদ ভূইয়া (আনারস) ৫৫২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল বাশার (নৌকা) পেয়েছেন ৩৫৯১ ভোট। কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী লিটন মিয়া (চশমা) ১১ হাজার ২৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগ মনোনীত ফারুক মিয়া (নৌকা) পেয়েছেন ৬৭৩৩ ভোট। সাদেকপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাফায়েত উল্লাহ (নৌকা) ৫০৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফাজ্জল হক (আনারস) পেয়েছেন ৩৪৩১ ভোট।

শিমুলকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত মিজানুর রহমান (নৌকা) ৪৪৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল আজিজ (ঘোড়া) পেয়েছেন ৪২২৯ ভোট। শিবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত শফিকুল ইসলাম (নৌকা) ১০ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সাহিদ মিয়া (হাতপাখা) পেয়েছেন ১২৬২ ভোট। আগানগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত হুমায়ুন কবির (নৌকা) ৪৪৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম (চশমা) পেয়েছেন ৪২৬৭ ভোট।

গজারিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ. এম শাহরিয়ার (চশমা) ৪১১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত ফরিদ উদ্দিন খান (নৌকা) পেয়েছেন ৪০০৪ ভোট।


আরও পড়ুন