করিমগঞ্জে গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় সাথী আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আতকাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাথী আক্তার ইটালী প্রবাসী সুজন মিয়ার স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী রামনগর গ্রামের আলম মিয়ার মেয়ে।

জানা যায়, ১০ জানুয়ারি মঙ্গলবার ভোরে বাংলাঘরের ভেতরে ধর্নার সঙ্গে গলায় দড়ি জড়িয়ে ওই গৃহবধুর মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। মরদেহ দেখে নিহতের স্বামী সুজন মিয়ার ডা-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মন্টু চন্দ্র পাল নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে রাত ১০টায় বাবার বাড়িতে নিহতের দাফন-কাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে এটি আত্মহত্যা না পরিকল্পিত হত্যা তা নিয়ে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

নিহতের বাবা আলম মিয়া জানান, সুজনের পরিবার প্রভাব কাটিয়ে জোর করে আমার অমতে মেয়েকে সুজনের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকে সুজন ও তার পরিবার আমার মেয়ের উপর নানা রকম অহেতুক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের শেষ পরিনতি হিসাবে তাকে হত্যা করে। আর পরিকল্পিত এ হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য তাকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। আমি এর সুষ্ট বিচার চাই।

সুজনের প্রতিবেশী আবু বাক্কার জানান, সুজন বিদেশে থাকাকালে সাথীর সহিত তার শ্বশুর-শ্বাশুরীর ঝগড়া লেগেই থাকত। এ নিয়ে সাথী বেশ কয়েকবার আমার কাছে নালিশও করেছিল। এমনকি সুজনের ভাই শয়ন সাথীকে যৌনাচার করার চেষ্টা চালায় এ অভিযোগও এলাকাবাসিসহ অনেকে জানে।

স্থানীয় মেম্বার লিটন মিয়া জানান, সুজন দেশে আসার পর দুজনের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে নিহত সাথী তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। পরে বিষয়টি তার বাবা আমাকে জানালে উভয়ের মধ্যে কলহ মিটিয়ে মিল-মিশাদ করে দেই। তিনি আরও বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেটি আইন দেখবে, তবে এটির সুষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করি।

তবে এলাকায় প্রবল গুঞ্জন উঠেছে যে মাটিতে হাঁটু ঘেরে আত্মহত্যার ঘটনা এলাকায় প্রথম দেখা গেলো।

এলাকাবাসি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিগত ছয় বছর আগে আতকাপাড়া গ্রামের সাহাবদ্দিনের ছেলে সুজন মিয়ার সাথে পার্শ্ববর্তী গ্রামের আলম মিয়ার মেয়ে সাথীর বিয়ে হয়। সাথীর প্রায় পাঁচ মাসের গর্ভাবস্থায় স্বামী সুজন মিয়া কর্মের সন্ধানে ইটালী চলে যায়। এবার গত চার মাস পূর্বে সুজন বাড়ি আসে।

অপরদিকে অভিযুক্ত স্বামী সুজন ও তার পরিবার ঘটনা পর থেকে আত্মগোপন করলে তাদের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে হত্যা না আত্মহত্যা তা মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রাপ্তির পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শামছুল আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন।


আরও পড়ুন