করিমগঞ্জ - January 13, 2022

অবশেষে সংস্কার হচ্ছে টামনী আকন্দ পাড়ার রাস্তা

সবুজে শ্যামলে ভরা আমাদের এ দেশের বেশির ভাগ স্থান জুড়ে রয়েছে গ্রাম। গ্রামকে গড়েই উঠেছে আমাদের দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে গ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি কখনও সম্ভব নয়।

কিশোরগঞ্জ জেলার, করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীর্থভূমি খ্যাত গ্রাম টামনী আকন্দ পাড়া। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাস্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের অন্যতম সহচর আব্দুর রাজ্জাক কোম্পানির আমন্ত্রনে এই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দাড়িয়ে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য তরুনদের ডাক দিলে ১৮ জন টকবগে যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং নিজেদের জীবন বাজি রেখে ছিনিয়ে আনেন মহান স্বাধীনতার লাল সূর্যটি।

অথচ আমরা কী দুর্ভাগা, সারা বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে তখনও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রামটির মানুষকে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাঁদা মাটিতে তলিয়ে যায়। কোন গাড়ি-রিকশা তো দুরে থাক, হেঁটেও যাওয়া যায় না ঠিকমতো। হেঁটে গেলেও জুতা খুলে চলাচল করতে হয়। অসুস্থ কোন রোগীকে হাসপাতালে নেয়াও যার পর নাই দূরহ।

দূর পরবাসে থেকেও দেশে নিজ গ্রামের রাস্তাটির এমন বেহাল দশা আমাকে খুব কষ্ট দিত। তাই বর্ষাকাল আসলেই পাড়ার যুবকদের উত্সাহিত করে নিজের সাধ্যমত সহযোগিতা করে বালু মাটি দিয়ে রাস্তা মেরামত করে সাময়িক চলাচলের উপযোগী করে দিতে চেষ্টা করতাম। অপরদিকে দীর্ঘদিন থেকেই রাস্তাটিকে পাকা করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা আসছি। কিন্ত মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি।

অবশেষে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সৈয়দ_মাসুদ শপথ গ্রহণের পরপরই টামনী_আকন্দ_পাড়া’র ভাইরাল হওয়া রাস্তাটি সহ গুজাদিয়া ইউনিয়নের ৫টি রাস্তা সংস্কার ও মেরামত শুরু করেন।

তবে গ্রামের মানুষের দাবী, টামনী আকন্দ পাড়ার রাস্তাটি পাকা করে, চরতালঙ্গা সেতুর সাথে সংযোগ করে দেওয়া হোক। তাতে উপকৃত হবে গ্রামটি সহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ।


আরও পড়ুন