মিরাজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ছাপিয়ে সাকিবদের জয়

বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে অল্প পুঁজি গড়েও ফরচুন বরিশালের চোখে চোখ রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল চট্টগ্রামের স্পিনাররা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ও আইকন নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিতে জয়ের স্বপ্নও দেখতে পারতো চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কিন্তু ম্যাচের পুরো মোমেন্টাম নষ্ট করে দেয় দলটির পেসাররা। শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলামের খরুচে বোলিংয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বরিশাল। দারুণ জয় দিয়ে আসরটি শুরু করলো সাকিব আল হাসানরা।

আজ শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান তোলে চট্টগ্রাম। জবাবে আট বল বাকি থাকতেই চার উইকেটের জয় পায় বরিশাল। ব্যাট হাতে দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন সৈকত আলী। বল হাতে চট্টগ্রামের হয়ে ১৬ রান দিয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট শিকার করেন অধিনায়ক মিরাজ।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় বরিশাল। মাত্র তিন রানের মাথায় মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত (১)। চট্টগ্রামের স্পিন আক্রমণের সামনে বেশ সতর্ক অবস্থায় ব্যাট করতে থাকেন তিনে আসা সাকিব আল হাসান ও ওপেনার সৈকত আলী। এই যুগলের ২৫ রানের জুটি ভেঙে সাকিবকেও সাজঘরে ফেরান মিরাজ। ১৬ বলে ২টি বাউন্ডারিতে ১৩ রান করেন বরিশালের এই অধিনায়ক।

তৃতীয় উইকেটের জুটিতে সৈকতের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটিতে গড়েন তৌহিদ হৃদয়। দলীয় ৬২ রানের মাথায় এই ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান মুকিদুল ইসলাম। ১৭ বলে ১৬ রান করে ফেরেন হৃদয়।

চাপে পড়া বরিশালের একপাশ আগলে রাখেন সৈকত। এই ওপেনারকে দারুণ সঙ্গে দেন ইরফান শুক্কুর। তাদের ৩০ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। ৩৫ বলে এক চার ও দুই ছয়ে ৩৯ রান করে ফেরেন সৈকত, তার পরের বলেই ১৩ বলে ১৬ রান করে ফেরেন শুক্কুর। একই ওভারে দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে দারুণ ব্রেক থ্রু এনে দেন অধিনায়ক মিরাজ।

নতুন ব্যাটার সালমান হোসেনকে রানআউটে ফেরান আফিফ হোসেন ধ্রুব। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। তবে ম্যাচের মোড় নিজেদের দিকে নিয়ে আসতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি বরিশালের। জিয়ারউর রহমান ও ডোয়াইন ব্রাভোর জুটিতে পথ খুঁজে পায় তারা। চট্টগ্রামের পেসারদের একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়ের পথ সুগম করে তোলে এই যুগল। তাদের অবিচ্ছেদ্য ৩৪ রানের জুটিতে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় বরিশাল।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে এসেই শুরুতে ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম। মাত্র ৩৩ রানেই তিন উইকেট হারায় চ্যালেঞ্জার্সরা। ইনিংসের তৃতীয় বলে ফেরেন কেনার লুইস। তাকে ফিরিয়ে বরিশালকে শুরুতেই ব্রেক থ্রু এনে দেন নাঈম হাসান। তিনে এসে আলজারি জোসেফের শিকার হন আফিফ হোসেন ধ্রুব (৬)। দলীয় ৩৩ রানের মাথায় সাকিব আল হাসানের শিকার হন সাব্বির রহমান (৮)।

একপাশ ধরে রাখা ওপেনার উইল জ্যাকও ফেরেন লিনটটের শিকার হয়ে। ২০ বলে ১৬ রান করেন তিনি। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও শামীম পাটোয়ারির জুটির দিকে চেয়েছিল চট্টগ্রাম। তবে এই জুটিও দলকে টেনে তুলতে পারেনি। ২০ বলে ৯ রান করে ফেরেন মিরাজ ও ২৩ বলে ১৪ রান করে জোসেফের দ্বিতীয় শিকার হন শামীম।

শেষের দিকে নাঈম হাসানের ১৫ ও ব্যানি হাওয়েলের ২০ বলের ঝড়ো ৪১ রানের ইনিংসে ভর করে ১২৫ রানের সংগ্রহ পায় চট্টগ্রাম। বরিশালের হয়ে একাই তিন উইকেট শিকার করেন জোসেফ।


আরও পড়ুন