করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম খান কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তি ও মহান বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্গকে কেন্দ্র করে তাদের সাথে অসদাচরণ করায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড। এসময় তাদের সাথে একাত্বত পোষণ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধ সন্তান কমান্ড।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এর ব্যানারে ১৫ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বেলা ২ টায় করিমগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের প্রজন্মদের নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভা করে বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা।

সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেহেদী উল আলম, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মমিন আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফালু মিয়া, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিরাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহাবদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক কিশোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সহ-সভাপতি জামিল আনসারী প্রমূখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সন্তান কমান্ডের সদস্য হেলাল উদ্দিন, মোঃ রাসেল, মোঃ শরিফ, স্বপন মিয়া, বাবলু খান, সায়েম উদ্দিন, মোঃ জিয়া মিয়া প্রমূখ।

মেহেদী উল আলম বলেন, নাসিরুল ইসলাম খান উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নানা রকম কটুক্তি ও হীনমন্তব্য করে থাকেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে ভোরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্গ দিতে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অসদাচরণ করেন নাসিরুল ইসলাম খান। এ নিয়ে নাসিরুল ইসলামের প্রতি মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষিপ্ত হলে আমি তাদের শান্ত করি এবং এর সুষ্ট বিচার হবে বলে তাদের আশ্বাস্ত করি।

তিনি আরও বলেন বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার চেয়ারম্যান বার বার চেষ্টা করলেও নাসিরুল ইসলাম খান কোনো কর্ণপাত করেনি। তাই তার বিরুদ্ধে আজকে আমাদের এই প্রতিবাদ মিছিল।

প্রতিবাদ সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, নাসিরুল ইসলাম খান একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা। তাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যোগ্য সম্মান তার কাছে নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। অচিরেই চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে অব্যহতি দিয়ে তাকে বিচারের আওতায় আনার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছেন ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা।

এ বিষয়ে নাসিরুল ইসলাম খান বলেন, আমার দ্বারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসদাচরণমূলক কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা।