ইউক্রেন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে বাংলাদেশেরও!

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শিক্ষা নিয়েছিল আমেরিকা

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ করা ছাড়া আর কোন পথই খোলা ছিলনা। অর্থাৎ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ‌যেমনটা হয়। আমেরিকা, ন্যাটো ও ইইউর ফাঁদে পা দেয়ার আগে ইউক্রেনের ভাবা উচিৎ ছিল রাশিয়া পৃথিবীর দ্বিতীয় শক্তিধর রাষ্ট্র। আমেরিকার উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনকে ন্যাটোভুক্তির পর তাদের ভূখন্ড ব্যবহারের মাধ্যমে চিরশত্রু রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে সামরিক বা রাজনৈতিক ভাবে তাদের ধংস করে দেয়া। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিচক্ষণতা সেটা হতে দেয়নি। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে বার বার নিষেধ করার পরও ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হতে চেয়েছে যা রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।

অবশেষে আমেরিকা, ন্যাটো ও ইইউ ভয়ে লেজ গুটিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইউক্রেনকে একা ছেড়ে দিয়েছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, গাছে তুলে মই নিয়ে চলে গেছে। এখন নিষেধাজ্ঞার নামে ভন্ডামি করে পৃথিবীকে বোকা বানাতে চাইছে। অর্থনৈতিক ভাবে রাশিয়াকে চাপে ফেলতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা না করে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে যুদ্ধ লেলিয়ে দিচ্ছে। এমনকি ইজরায়েল ও তালেবানও রাশিয়ার আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে বিবৃতি দিচ্ছে! অথচ ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের বেলায় তেমনটা ছিল না। যা নিতান্তই হাস্যকর।

এখন রুশ সেনাবাহিনী ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলের দ্বারপ্রান্তে। চতুর্মুখী আক্রমণে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর বিমান ঘাটি ও সামরিক স্থাপনা ধংস হয়ে তারা অসহায় ও কোনঠাসা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আগে ইউক্রেনকে ভাবা উচিৎ ছিল। মিত্রদের ফাঁদে পা দিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে এখন ইউক্রেনের সাধারণ জনগণকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি।

এই পরিস্থিতিতে দল ভারি করতে বাংলাদেশেরও সমর্থন চাইছে আমেরিকা, ন্যাটো, ইইউ ও তাদের মিত্ররা। রাশিয়া চাইছে বাংলাদেশ যেন তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী নিরপেক্ষ ভূমিকা অবলম্বন করে। যদিও বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখন পর্যন্ত কোন বিবৃতি দেয়নি। যত বৈরী অবস্থাই আসুক বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া “সবার সাথেই বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়” পররাষ্ট্রনীতিতে অটল থেকেছে। আশাকরি বঙ্গবন্ধু কণ্যার দ্বারা এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা। তবে বাংলাদেশের শিক্ষা নিতে হবে।

বহিঃশত্রুর আক্রমণে মিত্রদের কাছে তেমন প্রত্যাশা করা যাবেনা। নিজের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নিজ ভূখন্ড আক্রান্ত হলে শত্রুর ভূখন্ডে পাল্টা আক্রমণের চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। বিগত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশ অত্যাধুনিক অনেক অস্ত্র আমদানি করেছে। আরো অত্যাধুনিক অস্ত্র আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও তুরষ্কের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা ইস্যু ও পার্বত্য অঞ্চলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত আসলে রাষ্ট্র ও জনগণ তা কোনদিন বরদাশত করবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধ তার জলন্ত উদাহরণ।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানকে সহায়তার জন্য আমেরিকান সপ্তম নৌবহর ৭৫টি জঙ্গি বিমান, নিউক্লিয়ার বোমা, ২০০০ মেরিন সেনা, ২৫টি হেলিকপ্টার, তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, চারটি গান ডেস্ট্রয়ার, একটি নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিনসহ বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে। কিন্তু রাশিয়া ও ভারতের কঠোর অবস্থানের কারণে এই নৌবহর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নিতে সাহস করেনি। রাশিয়া সপ্তম নৌবহরকে ঠেকানোর জন্য বঙ্গোপসাগরে ব্যাপক সামরিক শক্তি সমাবেশের ঘোষণা দেয় এবং রাশিয়ান সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহরের সামনে ভেসে উঠে। ফলে আমেরিকা ভয়ে সপ্তম নৌবহর ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

হ্যাঁ, এটাই আমেরিকা…..!!

 

মিজবাহ উদ্দিন আহমদ (নিঝুম)
Facebook Profile (Click Here)
[email protected]


আরও পড়ুন