করিমগঞ্জ - March 11, 2022

করিমগঞ্জে পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন

বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অর্ধশতক পরর আমাদের প্রত্যাশার অনেক কিছু পূরণ হয়েছে। বর্তমানে দেশে জলে স্থলে, অন্তরীক্ষে পাতালে উন্নয়ন হচ্ছে। দেশে বড় বড় স্থাপনা হচ্ছে। বিদ্যুতের ঘাটতি নাই, খাদ্যে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। শুক্রবার দুপরে উপজেলা সাধারণ পাঠাগার চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ গণগবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত করিমগঞ্জ পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

পাশাপাশি কিছু হতাশার কথাও জানান তিনি। যে চেতনার উপর ভর করে ১৯৭১ সালের এই দিনে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলণ করেছিলাম তার কিছু কিছু জায়গায় আজও অতৃপ্তি রয়েছে। যে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙ্গালীর মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়েছিল তা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নেতৃত্বে ৭১’এ এসে পূর্ণতা লাভ করে। কিন্তু মুক্তির ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের সাংস্কৃতিক মুক্তি আসেনি। বর্তমানে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে গেলে নেতার জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়, এটা কেন লাগবে- এটা তো পাকিস্তান আমলেও লাগত না। এমন বৈষম্য আমাদেরকে খুবই পীড়া দেয়।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে অপ যা কিছু হচ্ছে যেমন ঘুষ-দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, ঋণখেলাপি, জনগণের টাকা আত্মসাৎ এই সমস্ত কাজ গুলো যদি না হত, তাহলে আমাদের আরও বেশি উন্নতি হত বলে বিশ্বাস করি। উত্তরণের উপায় হিসাবে তিনি বলেন, যত শীঘ্রই সম্ভব এ অপকর্মগুলি থেকে আমদের বিরত থাকতে হবে। তাহলেই আমার স্বাধীনতার পূর্ণতা লাভ করবো।

প্রসঙ্গত: ১৯৭১ সালের ১১ মার্চ তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ মধ্যবাজারে ছাত্রলীগের অফিসে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলণ করেন। পতাকা উত্তোলণ করেছিলেন তৎকালীন থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ।

এ উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকে দিবসটিকে ঘিরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির অানুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ। এসময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তসলিমা নূর হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ গণগবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইকবাল ও কন্ঠশীলনের একঝাঁক শিশু কিশোর।

দুপুরে হাবিবুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালণায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা অংশ নেন পৌর মেয়র হাজী মুসলেহ উদ্দিন, কবি সালেহ আহমেদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির স্বপন ভান্ডারী, কমরেড হারুন অর রশিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী আবু সুফিয়ান, কবি জাহাঙ্গীর কবির পলাশ, মশিউর রহমান বাবুল, সাংবাদিক আঃ জলিল মিয়া, আরিফুল ইসলাম শাহিনুরসহ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের বিপুল সংখ্যক সদস্য, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণ এতে অংশ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে শিশু-কিশোরদের মঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


আরও পড়ুন