বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোলাকিয়ায় লাখো মুসল্লি

দুই বছর পর কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আবারও দেশের ‘সবচেয়ে বড়’ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মে) সকাল ১০টায় প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ইমামতি করেন শহ‌রের হয়বতনগর মস‌জি‌দের ইমাম ‌শোয়াইব বিন আব্দুর রউফ। এবারের জামাতে প্রায় চার লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন বলে ধারণা আয়োজকদের। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ এ জামাতের ইমামতি করার কথা থাকলেও তিনি অসুস্থ থাকায় জামাতে অংশ নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।

এদিকে বৃষ্টি হতে পারে জেনেও সকাল থেকে মুসল্লিদের ঢল নামে শোলাকিয়া মাঠের দিকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দূর-দূরান্ত থেকে আসা টুপি-পাঞ্জাবি পরা পায়ে হাঁটা মুসল্লিদের ভিড় এই বিশাল মাঠে এসে পরিণত হয় জনসমুদ্রে। করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাতে অংশ নিতে মাস্ক পরে আসেন অনেকেই। তবে ছাতা ও মোবাইল নিয়ে আসা নিষিদ্ধ ছিল।

২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার পর থেকে শোলাকিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়। দুই বছর পর জামাত হওয়ায় এবার তার চেয়েও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুটি ওয়াচ টাওয়ারে স্নাইপিং রাইফেল নিয়ে দায়িত্বপালন করেন র‌্যাব সদস্যরা। বাকি চারটি ওয়াচ টাওয়ারে ছিল পুলিশের সদস্য। চারটি শক্তিশালী ড্রোন ক্যামেরা ও অসংখ্য ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় পুরো এরিয়াটি প্রতিটি মূর্হুতে পর্যবেক্ষণ করা হয়। মোতায়েন ছিল মাইন সুইপিং ও বোমা নিস্ক্রিয়করণ দল।

রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ছয়টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে তিনটি, ৩ মিনিট আগে দুটি এবং ১ মিনিট আগে একটি গুলি ছুঁড়ে নামাজ শুরুর সংকেত দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজসহ বিশিষ্টজনেরা এ মাঠে নামাজ আদায় করেন।

পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, সকাল থেকেই পুরো মাঠ তল্লাশি করা হয়। শহরের যত অলিগলি আছে, সবখানে আমাদের নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ছিল শোলাকিয়ায়।

বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম বীর ঈশাখাঁর ১৬তম বংশধর দেওয়ান মান্নান দাঁদ খান ১৮৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহের জন্য জমি ওয়াক্ফ করেন। তারও দু’শো বছর আগে থেকে শোলাকিয়া মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে ওই ওয়াক্ফ দলিলে উল্লেখ আছে। লাখো মুসল্লির সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়লে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়- এমন ধারণা থেকে প্রতি বছর এখানে দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লির ঢল নামে। বংশ পরম্পরায় এ মাঠে নামাজ পড়ে আসছেন অনেকে।

১৮২৮ সালে শোলাকিয়া মাঠে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া‘। যা এখন শোলাকিয়া নামে পরিচিত।


আরও পড়ুন