করিমগঞ্জে ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোঃ বিল্লাল (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত উলঙ্গ লাশ উদ্ধার করেছে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ।

১৯ মে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলা জাফরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব জাফরাবাদ নান্দাইলে পাড়া মোড় গুরস্থান সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ব্যবসায়ী বিল্লাল উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে। বিল্লাল ঝাউতলা বাজারে ভাঙ্গারী ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।

করিমগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক বারোটার দিকে মৃত ব্যবসায়ী বিল্লালের ফোন নাম্বার থেকে থানায় ডিউটিরত অফিসারের কাছে ফোন আসে এবং ঠিকানা দিয়ে বলে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। তৎক্ষণাৎ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হয় এবং লাশের পাশে নিহতের আত্মীয় স্বজনদেরকেউ দেখতে পায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নিহতের ক্ষতবিক্ষত উলঙ্গ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশের বুকে, পেটে, মাথার পেছনে, ডান পায়ের পাতাতে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলেও তারা জানান।

করিমগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম সিদ্দিকী জানান, সাধারণ ডায়েরি মূলে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জলআধুনিক সদর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আমাদের প্রাথমিক ধারণা এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা। তবে মামলা না হলেও ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে বিল্লালের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনাজনিত হওয়ার বিষয়টি তার স্ত্রী রোচী আক্তার ও ভাই বাবুল মিয়া কিছুতেই মানতে নারাজ।

নিহতের স্ত্রী রোচী আক্তার জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় করিমগঞ্জ বাজার থেকে শেষবার আমাকে ফোন দিয়ে বলে এখানে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টি থামলেই আমি বাড়ি চলে আসব। কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমার স্বামীর ফোন নাম্বার থেকে সেদিন রাতে আমাকে ও থানায় যে ফোন দিয়েছিল তাকে খুঁজে বের করা হোক। তাহলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

নিহতের ভাই বাবুল মিয়া জানান, আমার ভাইয়ের সাথে পূর্বে কারো শত্রুতা ছিল না। আমার ভাই একজন সহজ সরল মানুষ ছিল। আমার মনে হয় সেদিন করিমগঞ্জ বাজার থেকে তাগাদা (নগদ টাকা) নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে যে কেউ টাকার লোভে ভাইকে হত্যা করতে পারে। তিনি আরো বলেন, এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়। সড়ক দুর্ঘটনা হলে বিল্লালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় থাকতো না এবং মোটরসাইকেল থেকে বিল্লালের শরীরটি এক কিলোমিটার দূরে কিভাবে গেল, এটি অত্যন্ত রহস্যজনক। তাই পুলিশ প্রশাসনকে বলবো সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্যট উদঘাটন করা হোক।


আরও পড়ুন