রিয়ালের রেকর্ড ১৪তম চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়

লিভারপুলকে হারিয়ে রেকর্ড ১৪তম চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে নিজেদেরই ছাড়িয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একমাত্র গোলে ও গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার অসাধারণ দক্ষতায় ইয়র্গেন ক্লপের শিষ্যদের ১-০ ব্যবধানে হারায় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। অথচ পুরো ম্যাচেই একক দাপট দেখিয়েছে লিভারপুল। কিন্তু শেষ হাসিটা রিয়ালই হেসেছে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে রিয়ালই যে সেরা দল তা আরও একবার প্রমাণ করল। কেননা এই লিগে দ্বিতীয় শীর্ষে থাকা এসি মিলান ৭টি শিরোপা জিতেছে। আর লা গ্যালাকটিকোরা ২০১৮ সালের পর ফের ট্রফির স্বাদ পেল। এর আগে ১৯৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬৬ (ইউরোপিয়ান কাপ), ৯৮, ২০০০, ২০০২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৮ (চ্যাম্পিয়নস লিগ নাম করণের পর) জিতেছিল।

অপরদিকে ২০১৯ সালের পর সপ্তম শিরোপা জেতা হলো না লিভারপুলের।

একমাত্র কোচ হিসেবে ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার রেকর্ড গড়লেন আনচেলত্তি। আর চলতি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৫টি গোল করেছেন রিয়ালের করিম বেনজেমা।

এদিন দর্শক-সমর্থকদের মাঠের বাইরের বিশৃঙ্খলার কারণে ম্যাচটি শুরু হয় ৩৬ মিনিট পর। তবে ম্যাচে ভিনি গোল দিলেও জয়ের মূল নায়ক রিয়ালের গোলরক্ষক কর্তোয়া। কেননা এই তারকা ফাইনালের এই ম্যাচে ৯টি সেভ করেন।

শনিবার প্যারিসের স্তাদে দে ফ্রান্সে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট দুদল সমান তালে খেলে। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণের ধার বাড়ায় লিভারপুল। আর এই আক্রমণ চলে প্রথমার্ধের শেষ অবধি। এরমাঝে অন্তত দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল দলটির সামনে।

খেলার ১৬তম মিনিটে প্রথম সুযোগটি পান মোহামেদ সালাহ। তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থিয়াগো আলকান্ত্রাও বঞ্চিত হন। কিন্তু পরের মিনিটেই সালাহ গোলের জন্য শট নিলেও তা ছিল দূর্বল, যা রুখে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া।

২০তম মিনিটে ট্রেন্ট আর আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে পরের মিনিটেই। সাদিও মানের জোড়াল শট পোস্টে বাধা পড়ে।

আক্রমণের ধারা বজায় রাখা অলরেডদের আরেকবার প্রতিহত করেন কর্তোয়া। এবার ৩৪তম মিনিটে সালাহর হেড আটকে দেন এই বেলজিয়ান।

শ্রোতের বিপরীতে রিয়াল প্রথমার্ধের শেষে এগিয়ে যেতে পারতো। তবে করিম বেনজেমার গোলটি রেফারি অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন। যদিও পরে ভিএআর দেখা হয়, তবে নিশ্চিত অফাসাইডেই ছিলেন এই ফরাসি তারকা। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুদল।

দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট ধরে রাখে লিভারপুল। যেখানে লুইস দিয়াসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেন দেন রিয়াল ডিফেন্ডার কারবাহাল। ৫৫তম মিনিটে ফের বঞ্চিত দলটি। এবার আর্নল্ডের ক্রস ছুঁতে পারেননি থিয়াগো। ৩ মিনিট পের সালাহ মিস করেন।

তবে ৫৯তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় রিয়াল। ফেদে ভালভার্দের দূরের ক্রস থেকে ব্রাজিলিয়ান ভিনি ডান পায়ের আলতো টোকায় আলিসনকে পরাস্থ করেন। আনন্দের ভাসে রিয়াল শিবির।

এরপর ৬৪ ও ৬৯ মিনিটে সালাহর দুটি শট প্রতিহত করেন কর্তোয়া। আর ৮০ ও ৮২ মিনিটে আরও দুটি সেভ করেন এই গোলরক্ষক। বিশেষ করে ৮২ মিনিটে সালাহর দ্রুত গতির শটও আটকে দেন তিনি। পরের মিনিটে যদিও রিয়াল একটি আক্রমণ করে। তবে আলিসন রুকে দেন।

কিন্তু ম্যাচের বাকি সময়ও লিভারপুল কোনো গোল না পাওয়ায় শেষ অবধি জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।


আরও পড়ুন