১ ডলার = ১০০.২০ টাকা

আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খোলা বাজারে বাড়ছে ডলারের দাম। এর ধারাবাহিকতায় ডলারের দাম ফের ১০০ টাকা অতিক্রম করেছে। এর আগে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময় ১০২ টাকা অতিক্রম করেছিল।

রোববার (১৭ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন এলাকায় মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ঈদের ছুটির পর দুই দফা আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বুধবার সর্বশেষ ৯৩.৯৫ টাকা দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছিল। এর পরেই খোলা বাজারে দাম ১০০ টাকার কাছাকাছি যায়। আর রোববার দাম ১০০ টাকা অতিক্রম করেছে।

রাজধানীর দিলকুশার নিউ প্রাইম মানি চেইঞ্জার লিমিটেডের মান্নু মিয়া বলেন, রোববার ডলার ১০০.২০ থেকে ১০০.৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শনিবার বিক্রি হয়েছিল ৯৯.৭০ থেকে ৯৯.৮০ টাকায়।

মতিঝিলের অর্নেট মানি এক্সচেঞ্জের মাসুম আহমেদ বলেন, ডলারের সংকট। আমাদের কাছে খুব বেশি নেই। আজ দাম ১০০ টাকা অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ প্রতি ডলার ১০০ টাকায় কিনে ১০০.২০ তে বিক্রি করছি। পুরানা পল্টনের আইএমই ইন্টারন্যাশনাল মানি চেইঞ্জারের আরাফাত রহমানও একই কথা জানান।

মানি এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তা ও ব্যাংকারদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দেশে আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। আমদানির সঙ্গে রপ্তানি আয় সেভাবে বাড়েনি। এতে বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে খুব বেশি গতি পাচ্ছে না। আগের চেয়ে রেমিট্যান্স আহরণ কম। তাই ডলারের চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়ছে। দিন দিন ডলারের বাজার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলোর কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমছে। তবুও ডলারের বাজার স্থিতিশীল না হয়ে দাম বাড়ছে। ডলারের বাজার কবে স্থিতিশীল হবে, তাও কেউ নিশ্চিত নয়। তবে রেমিট্যান্সের আহরণ বাড়লে ডলারের চাহিদার অনেকটা যোগান দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

ডলারের দাম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪.৮০ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। ২০২১ সালের আগস্টের শুরুতেও আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলারের মূল্য একই ছিল। ৩ আগস্ট থেকে দু’এক পয়সা করে বাড়তে বাড়তে গত বছরের ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো দাম ৮৫ টাকা ছাড়ায়।

এদিকে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কেনাবেচা হয়েছিল ৮৫.৮০ টাকায়; যা ৯ জানুয়ারি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকা। গত ২৩ মার্চ তা বেড়ে ৮৬.২০ টাকায় বেচাকেনা হয়। গত ২৭ এপ্রিল ডলার প্রতি ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬.৪৫ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। গত ১০ মে ডলার প্রতি আরও ২৫ পয়সা বেড়ে ৮৬.৭০ টাকায় বেচাকেনা হয়। গত ১৬ মে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কেনাবেচা ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর ২৩ মে ফের ৪০ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের দাম ৮৭.৯০ টাকা নির্ধারণ করে। এরপরও বাজার স্থিতিশীল হয়নি। পরে সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশের (এবিবি) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৯ টাকা বেঁধে দেয়। আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির জন্য বিসি সেলিং রেট নির্ধারণ করা হয় ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা। যদিও ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৯ টাকা ৮০ পয়সার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু তাতেও বাজার স্থিতিশীল না হওয়ায় ডলারের এক রেট উঠিয়ে দিয়ে গত ২ জুন আরও ৯০ পয়সা বাড়িয়ে দাম ৮৯ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

গত ৬ জুন প্রতি ডলার ৯১ টাকা ৫০ পয়সা। ৭ জুন ডলার ৯১.৯৫, ৮ জুন ৯২ এবং গত ১৩ জুন ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৯২.৫০ টাকা। গত ১৫ জুন দাম ছিল ৯২.৮০, ২১ জুন দাম বেড়ে ৯২.৯০, পরের দিন তা বেড়ে ৯২.৯৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। গত ২৮ জুন দাম বেড়ে ৯৩.৪৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। আর তা ঈদের পর দুই দফায় বেড়ে সর্বশেষ ডলার বিক্রি হয়েছে ৯৩.৯৫ টাকায়। যা ডলারের দামের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার মূলধনের ১৫ শতাংশের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রতিষ্ঠানের কাছে রাখতে পারে। এর অতিরিক্ত হলেই ব্যাংকটিকে বাজারে ডলার বিক্রি করতে হয়।


আরও পড়ুন