শোক দিবসে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ কর্মীদের পেটাল পুলিশ

হয়েছে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের ভেতরে ঢুকে যায়। এ সময় পুলিশ সেখানে ভবনে ঢুকে ছাত্রলীগ কর্মীদের পিটিয়ে বের বের করে দেয়। দৌড়ে বের হওয়ার সময় একাডেমির সড়কে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে পুলিশ সদস্যরাও তাদের পেটাতে থাকে। পিটুনি খেয়ে অনেকে সড়কে পড়ে যান। সেখানেও তাদের পেটাতে থাকে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আজ সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমির আলোচনা সভায় যোগ দেন। সভাপতি পদবঞ্চিত জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সবুজ মোল্লাসহ সমর্থকরা ওই সভায় যান। বেলা ১১টার দিকে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল কবির রেজা নেতাকর্মীদের নিয়ে শিল্পকলায় আসলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বরগুনা নদী বন্দরের একটি কক্ষ থেকে কিছু দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমান বলেন, শিল্পকলা একাডেমির সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় একটি গ্রুপ শিল্পকলা একাডেমির ভিতরে ঢুকে পড়ে। শিল্পকলা একাডেমির দ্বিতীয় তলা থেকে পুলিশের গাড়িতে ইট ছুড়ে মারলে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল কবির রেজা জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শিল্পকলায় প্রবেশের সময় ছাদ থেকে তাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে অজ্ঞাতরা। তাদের ইট-পাটকেলে পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নদীবন্দর থেকে দেশিয় অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী নদীবন্দরে যায়নি। আর উদ্ধার হওয়া দেশিয় অস্ত্র ছাত্রলীগের নয়।

সভাপতি পদবঞ্চিত জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সবুজ মোল্লার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছর পর গত ১৭ জুলাই বরগুনা শহরের সিরাজ উদ্দীন টাউন হল মিলানায়তনে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২৪ জুলাই রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির অনুমোদন দেন। এতে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৩ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই সদ্য ঘোষিত এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বরগুনা শহরে পদবঞ্চিতরা।


আরও পড়ুন