সর্বোচ্চ দেড়শো আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ দেড়শো আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার ইসির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভা শেষে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বর্তমানে ইসির হাতে যেসব ইভিএম আছে তাতে ৭০-৮০টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্ভব। ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট নেয়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কঠিন। তারা বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখেছে, যদি নতুন মেশিন কেনা না হয়, তাহলে ১০০ আসনে ভোট করাই সমস্যা সংকুল হয়ে যায়।

সভায় ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ ছাড়াও দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে আগামী ৩১ অক্টোবর ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। একইসাথে আগামী ১২ অক্টোবর প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার আসনে উপনির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।

এর আগে ইভিএম বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া মতামত ও পরামর্শের জবাবে ইসি জানিয়েছিলো, যেহেতু সদ্যসমাপ্ত রাজনৈতিক সংলাপ ছাড়াও ইতোপূর্বে ইভিএম নিয়ে আরও সংলাপ, কর্মশালা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে এবং কমিশন যেহেতু ইভিএমের সার্বিক বিষয়ে এখনও স্থির কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি, সেহেতু সদ্য সমাপ্ত রাজনৈতিক সংলাপ ছাড়াও ইতোপূর্বে ইভিএম নিয়ে আরও যেসব কর্মশালা, মতবিনিময়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে তার সার্বিক ফলাফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচার-বিশ্লেষণ করে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার বিষয়ে কমিশন যথাসময়ে অবহিত করবে।

সোমবার (২২ আগস্ট) ইসির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার সংক্ষেপ নিবন্ধিত ২৮টি রাজনৈতিক দল, আইন, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান।

গত ১৭ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। বিএনপিসহ নয়টি দল সংলাপ বর্জন করে। সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল সব আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের প্রস্তাব দিলেও বেশিরভাগ দল ইভিএমের বিরোধিতা করে। এর আগে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে সংলাপেও ইভিএমের বিরুদ্ধে মতের পাল্লাই ভারি ছিলো।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আপত্তির মধ্যেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেক আসনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)।


আরও পড়ুন