রংপুর-১ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা ও বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় পদ হারানোর পর প্রশ্ন উঠেছে তাদের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকবে কি না।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলীয় পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গা ও পঙ্কজ নাথকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাদের এমপি পদে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তাদের বিষয়ে দল দুটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, সংবিধানে বলা হয়েছে, যে দল থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, সে দল থেকে যদি কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। অথবা তিনি যদি সংসদে তার দলের বিপক্ষে কোনো ভোট দেন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে।

তিনি বলেন, তাদের তো দল থেকে বের করে দেওয়া হয়নি। শুধু দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোটও দেননি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে বলা আছে। তাদের সংসদ সদস্য পদ যাবে না।

আরেক আইন বিশেষজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে কোন কোন ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। আমরা জানতে পেরেছি মশিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টি থেকে ও পঙ্কজ নাথকে আওয়ামী লীগের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের অব্যাহতি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তারা ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দেবেন। ব্যাখ্যা দেওয়ার পর দলীয় ফোরাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে কী পদক্ষেপ, সন্তোষজনক না হলে কী পদক্ষেপ, এর ওপর কোনো তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি হবে কি না, এগুলো সব পার্টিরই গঠনতন্ত্রের আওতাধীন। বর্তমানে তাদের যে ইস্যু, তা এখনো সংবিধানের আওতায় আসবে না। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যদি ফাইনালি তাদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন একটি প্রশ্ন উঠবে যে, তাদের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না। আমি এ মুহূর্তে যতটা বুঝতে পারছি, বিষয়টি এখনও সে পর্যন্ত গড়ায়নি। এটি প্রাথমিক স্টেজ। দল ফাইনালি তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জাপার যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের দলীয় গঠনতন্ত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সব পদ থেকে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে। রাঙ্গা ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

গত ৩১ আগস্ট হঠাৎ জাতীয় পার্টির দশম কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করেন থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। এরপরই রাঙ্গাকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে সরিয়ে দিতে চিঠি দেয় জাপার সংসদীয় কমিটি।

এ নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক এক প্রতিক্রিয়ায় জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, রওশন এরশাদের নাম ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষ কোনো একটা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। রাঙ্গা জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদপন্থি বলে আলোচনা আছে।

এদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথকে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে তার লিখিত বক্তব্য দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা ১১ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ সংগঠনের গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আপনাকে (পঙ্কজ নাথ) বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যপদসহ দলীয় অন্যান্য সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার লিখিত বক্তব্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য সাংগঠনিক নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

পঙ্কজ নাথ বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।