মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা ঐতিহ্যগতভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মিয়ানমার থেকে সীমান্তপথে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার হয়ে আসছে ২০০৫ সাল থেকে।এতে বছরে বাংলাদেশ থেকে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশী পাচার হচ্ছে।

মাদক পাচারের অর্থ দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কিনছে মরনাস্ত্র। এতে দেশের সংখ্যালঘু গণহত্যা ও সামরিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে মিয়ানমার। যা আঞ্চলিক রাজনীতি ও ভৌগলিক ভাবে বাংলাদেশের জন্য বিরাট হুমকি।

বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় ইয়াবাবিরোধী অভিযান জোরদার ও বছরে কোটি কোটি ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করলেও এসব ঘটনা মাদক পাচারে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে দমাতে পারছে না।

মিয়ানমার থেকে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের হাত ধরেই মূলত বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার শুরু হয়। এরপর সারা দেশে তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাবে শুধু মিয়ানমার সীমান্ত এলাকাতেই আছে অন্তত ৪৮টি ইয়াবা কারখানা। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এর মধ্যে ৩৭টির সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এসব কারখানা থেকে ১৭ ধরনের ইয়াবা বাংলাদেশে পাচার হয়ে আসছে।

মূলত ২০০৫ সাল থেকে পাচারকারীরা ইয়াবার নতুন বাজার হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেয়। এর আগে ইয়াবা পাচারের রুট ছিল থাইল্যান্ড। কিন্তু থাই সরকার ২০০৩ সাল থেকে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করলে ইয়াবা উৎপাদন ও পাচারকারীরা মাদকের নতুন রুট হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেয়। এর পর থেকে বাংলাদেশে ইয়াবার বাজার ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। মিয়ানমারের মাদকসম্রাটরা তাদের আন্তর্জাতিক চক্রের সহযোগিতায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এছাড়াও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তারা অনেক বেশি শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য।

মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তারা একসময় হেরোইন ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশকে ইয়াবা বিপণনের নতুন বাজার হিসেবে খুঁজে পাওয়ায় তাদের দৃষ্টি এখন প্রাণঘাতী এই মাদকের উৎপাদন ও পাচারের ওপর।

যদিও মিয়ানমার জান্তা সরকার বরাবরই মাদক পাচারের জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী গুলোকে দোষারোপ করে আসছে।

২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এই সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশটি থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার আগের চেয়ে আড়াই গুণ বেড়েছে।

বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ইয়াবা কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ ও ২১ সালে দেশে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ কোটি। এক বছরের ব্যবধানে ইয়াবা উদ্ধার বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ইয়াবাসেবীদের চিকিৎসা নেওয়ার হার প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এক পরিসংখ্যানে বলছে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৮০ লাখের উপরে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই ইয়াবাসেবী।

মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার ও বান্দরবানের প্রায় ২৮০ কিলোমিটার সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্ট দিয়ে `বানের জলের’ মতো বাংলাদেশে ঢুকছে ইয়াবার চালান। বাংলাদেশ সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির পরও চলছে মাদকের এ কারবার।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার যদি ইয়াবা পাচার রোধে ব্যাপক অভিযান চালায়, তাহলে মিয়ানমারের সেনা কর্তৃপক্ষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে মিয়ানমারকে পেছনে ফেলতে বাংলাদেশের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে।

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলঃ MKN Bangla

ভিডিও লিংকঃ বাংলাদেশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ইয়াবা ব্যবসা (ভিডিও)

https://youtu.be/09lYVl7_aLI