যুগে যুগে রাজা বাদশাহরা ক্ষমতা সংহত করতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে : জাপা মহাসচিব

মো. আব্দুল জলিল, স্টাফ রির্পোটার : জাতীয় পার্টির মহাসচিব এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, ধর্ম নিয়ে অনেক মানুষ অনেক সময় বাড়াবাড়ি করেছে এটা আমরা জানি। ইতিহাস যদি আমরা দেখি, দেখবো যুগে যুগে রাজা বাদশাহরা তাদের ক্ষমতা সংহত করতে ধর্মীয় উন্মদনা বা ধর্মকে ব্যবহার করেছে। সাধারণ মানুষ তারা তাদের ধর্মকে গভীরভাবে পালন করে কিন্তু সমাজে যারা সমাজপতি রাজনৈতিক নেতা অথবা যারা রাস্ট্রীয় কাঠামোতে থাকেন তারা ব্যক্তি স্বার্থে বা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ধর্মকে অব্যবহার করেন।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজপলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে পৌর এলাকার মোদকপাড়া পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এক বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি পৌর এলাকার আরও ৬টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

এসময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী মুসলেহ উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ভূইয়া, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা বেগম সাথী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আনিস ফকির, দেহুন্দা ইউপি চেয়ারম্যান এমএ হানিফ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির আহ্বায়ক হাজী উজ্জল মিয়া, সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম পলাশ প্রমূখ।

চুন্নু বলেন, শুধু হিন্দু-মুসলমান নয়, অন্যান্য জাতী-ধর্মের বেলাও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। আপনি পাকিস্থানে যান, দেখবেন মুসলমানে মুসলমানে অসম্ভব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে আছে। শিয়া-সুন্নী সম্প্রদায়ের এত মারামারি লেগে আছে, যার ফলে শত শত লোক মারা যাচ্ছে। ভারতে যান, সেখানে দেখবেন হিন্দুদের মধ্যে অনেক কাস্ট আছে। যারা শিডিউল কাস্ট তারা উচ্চ বর্ণের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেনা। এটাও কিন্তু একটা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা।

তিনি বলেন, যারা ধর্ম বিশ্বাস করে তারাতো এক সমতায় থাকা উচিৎ। এসময় তিনি প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স) এর কর্মময় জীবনের এক উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম মদিনা সনদই ছিল সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিচুক্তি। সেই সনদে লেখা ছিল যারা হিন্দু, যারা খ্রিষ্টান, যারা ইহুদী এবং যারা মুসলমান- এই তিন ধর্মের মানুষেই মদিনাতে তারা তাদের ধর্মীয় উৎসব করবে। কেউ কারো ধর্মীয় উৎসবে হস্থক্ষেপ করতে পারবেনা এবং কোনো রকম সমালোচনা করতে পারবেনা। সেটা ছিল নবীর লেখা অসম্প্রদায়িক লিখিত চুক্তি। আমরা সেই নবীর অনুসারী। আমাদের মধ্যেতো এরকম ধর্মীয় উন্মদনা বা পার্থক্য থাকার কথা না। যারা করে সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তি স্বার্থে, গোষ্ঠীর স্বার্থে অথবা ফ্যাসাদের তৈরি করতে।

তিনি ধর্মীয় উন্মদনা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, আমরা এক এলাকার মানুষ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আছি, আমাদের শান্তুিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। আমাদের এলাকায় ধর্ম নিয়ে খুব একটা সমস্যা হয় না। তবে যারা এই শারদীয় দূর্গা পূজা উৎসবে কোনো প্রকার উন্মদনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।


আরও পড়ুন