তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন আগ্রহী হওয়ায় আনন্দের জোয়ারে ভাসছে বাংলাদেশের উত্তরের জনপদ। এখন যেন স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝামাঝি অবস্থানে নদীপাড়ের মানুষ। বঞ্চনার দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনের আশায় বুক বাঁধছে দুই কোটি মানুষ।

উজানের আগ্রাসনে একসময় উত্তরের জীবনরেখা তিস্তা বছরের বেশির ভাগ সময় বুক শুকিয়ে মরে। একই নদী পুরো জনপদের মানুষকে মারে বর্ষার ঘন ঘন বন্যা আর নদীভাঙনে। চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজ ভেঙে যায়- এসব কিছু মিলে দুর্বিষহ জীবন তিস্তাপাড়ের মানুষের। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এ বিরানভূমি পরিণত হবে উৎপাদন আর উন্নত-সমৃদ্ধ গতিময় জনপদে।

তাই ভারতের সাথে তিস্তা চুক্তির আশা এখন আর তিস্তাপাড়ের মানুষের নেই। তিস্তা পাড়ের মানুষ এখন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। তিস্তা নদী থেকে প্রকৃত সুবিধা পেতে চায়। তাদের দাবি, তিস্তা চুক্তি হোক বা না হোক; প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভাটি থেকে তিস্তা-যমুনার মিলনস্থল পর্যন্ত নদীর প্রস্থ কমিয়ে ৭০০ থেকে ১০০০ মিটারে সীমাবদ্ধ করা হবে। নদীর গভীরতা বাড়ানো হবে ১০ মিটার। নদী শাসনের মাধ্যমে তিস্তা নদীকে সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে, দুই পাড় বেঁধে বন্যা ও ভাঙনরোধ আর শুষ্ক মৌসুমের জন্য পানি সংরক্ষণে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানি বহনক্ষমতা বাড়ানো হবে, দুই পাড়ে বিদ্যমান বাঁধের মেরামত করা হবে, নদীর দুই পাড়ে মোট ১০২ কিলোমিটার নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হবে, ৫০টি গ্রয়েন স্থাপন করা হবে, ড্রেজিংয়ের মাটি ভরাট করে নদীর দুই পাড়ে ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি উদ্ধার করা হবে। যেখানে গড়ে উঠবে জীবন ও জীবিকার শত আয়োজন।

এছাড়া চীনা মহাপরিকল্পনায় থাকছে- শিল্পকারখানা, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্যাটেলাইট শহর, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, নদীর দুই ধারে মেরিন ড্রাইভ নৌবন্দর, আধুনিক কৃষিসেচ ব্যবস্থা, মাছচাষ প্রকল্প ও পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে ৭ থেকে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

চীন নদীশাসন ও নদী ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে চায়। দুই বছর ধরে সমীক্ষা করে এই প্রকল্প তৈরি করে বেইজিং। তারা এ ব্যাপারে যথেষ্ট ইতিবাচক।

‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট এন্ড রেস্টোরেশন’ নামে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার কোটি টাকা।

জানা যায়, পূর্ব চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ান সিটির আদলে তিস্তার দুই পাড়ে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলা হবে।

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলঃ MKN Bangla

ভিডিও লিংকঃ তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যা যা থাকছে (ভিডিও)

Previous articleরাশিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দিলো বাংলাদেশ
Next articleবিদ্যুতের আগের দামই বহাল
মিজবাহ উদ্দিন আহমদ (নিঝুম)। জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে। সেখানেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স, রাজধানী ঢাকার সার্ক ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে মেডিকেল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজিতে অধ্যয়ন করছেন। রাজনীতি ও লেখালেখির প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকেই ২০০৬ সালে যুক্ত হন সাংবাদিকতায়। সাংবাদিকতা জীবনে ২০১৫ সালের ২৬শে মার্চ প্রতিষ্ঠা করেন জনপ্রিয় জাতীয় অনলাইন সংবাদপত্র মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম (http://muktijoddharkantho.com/)। নিজ হাতে গড়া এ পত্রিকায় তিনি ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে আজ অবদি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সাহসীকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়াও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (করোনা যোদ্ধা) হিসেবে কর্মরত আছেন। সেখানেও করোনা যুদ্ধের সময় বিচক্ষণতা ও সাহসীকতার জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বমহলে জনপ্রিয়। ফেইসবুক প্রোফাইল : https://web.facebook.com/nizum88/