ফেনীতে নুসরাত হত্যা মামলা পুনরায় তদন্তের দাবি

ফেনীর সোনাগাজীতে আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান হত্যা মামলা পুনরায় তদন্ত ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের স্বজনরা।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা শহরের জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুল আরেফিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ইসমাইল হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সৈয়দ দিন মোহাম্মদ, উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, সোনাগাজী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহ জাহান, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের ভাই নুর হোসেন, আফসার উদ্দিনের স্ত্রী সুরাইয়া আফসার ইফাত, জাবেদ হোসেনের বাবা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ, উম্মে সুলতানা পপির মা হোসনে আরা বেগম, মাকসুদ আলমের ছেলে মো. বিজয় ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মা বিবি ফাতেমা, তার প্রতিবেশী নিশাদ ভুঞা ও মহিউদ্দিন শাকিলের মামি রুমি বেগম।

বক্তারা বলেন, নুসরাত হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ন্যায়বিচার করতে বললেও পিবিআই স্থানীয় রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলমসহ ১৬ আসামিকে ফাঁসির আসামি বানিয়েছে। এছাড়া ঘুষ বাণিজ্য, ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ফুটেজ ও নুসরাতের আত্মহত্যার করার হুমকি সম্বলিত এসএমএস গায়েব, গ্রেপ্তারকৃতদেরকে বৈদ্যুতিক শক, ড্রিল মেশিন ব্যবহার এবং বিবস্ত্র করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ বনজ কুমারের শাস্তি দাবি করেন তারা।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহানকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত জাহান।

এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচ জনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। নুসরাত হত্যা মামলায় পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ২১ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই বছরের ২৯ মে ১৬ জনকে আসামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।


আরও পড়ুন