আ.লীগকে নিরাপদে সরে দাঁড়াতে বললেন মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগ সরকারকে নিরাপদে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ তার বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে। এখনও গণতন্ত্রের জন্য ৩৫ লাখ মানুষকে আসামি করেছো, সাতজন যোদ্ধা প্রাণ দিয়েছে-এর মূল্য অবশ্যই দিতে হবে। নিরাপদে সরে দাঁড়ান, তা না হলে জনগণের যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে, সুনামির মতো আপনাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। এর নেতৃত্বে আছেন তারেক রহমান।’

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত শনিবার কোনো কারণ ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্জারামপুরের একটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নয়ন মিয়াকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। জনগণ তোমাদের (সরকার) বিচার করবেই।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লড়াই শুরু হয়ে গেছে, মানুষ নেমে পড়েছে। এখন আমাদের আরও শক্তি সঞ্চয় করে নয়ন, আবদুর রহিম, নুরে আলম, শাওন, শাওন প্রধান, আলিমের রক্তের ঋণ পরিশোধের জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আছেন, তার মামলা চলছে, যে মামলায় তিনি খালাস হয়ে গিয়েছিলেন। শুধু তাকে নয়, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের কয়েকজন সিনিয়র নেতার নামেও নতুন করে মামলা শুরু করেছে। মুন্সীগঞ্জে আমাদের শাওন হত্যা মামলায় উল্টো আমাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বিএনপির মুন্সীগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন (কারাগারে)। তার স্ত্রী ফোন করে বলল, আরেকটি মিথ্যা মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এদের কী বিবেকও কাজ করে না! ’

বিচার বিভাগের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বিচার বিভাগকে বলতে চাই, বিচারপতিদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, দয়া করে ন্যায় বিচার করুন।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কাদের সাহেব খেলার কথা বলেন, ওদিকে আমরা যেতে চাই না। দেশের মানুষকে এতো বোকা মনে করেন। ১৫৪ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে সরকার গঠন করল। বলল, নির্বাচন খুব ভালো হয়েছে। জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই তো আমরা ক্ষমতায় এসেছি। ৫ শতাংশ লোকও ভোট দিতে যায়নি। সেই সময়ে পত্রিকায় ভোট কেন্দ্রের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল, ভোটার নেই, ভোট কেন্দ্রে কুকুর শুয়ে আছে। শফিউল আলম (প্রয়াত জাগপা নেতা) বলেছিন কুত্তা মার্কা নির্বাচন।’

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচন করল, সেই নির্বাচনে পুলিশসহ প্রশাসন যন্ত্র দিয়ে আগের রাতে সব ভোট চুরি করে নিয়ে গেল। খুব জোর গলায় বলতে শুরু করল, নির্বাচন করেই ক্ষমতায় এসেছি। হঠাৎ করে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলল, আগের রাতে নির্বাচনের দৃষ্টান্ত তিনি শোনেননি। এতে করে (সরকার) গায়ে খুব লেগেছে। বলছে (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), আমরা জাপান রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছি। কিন্তু জাপান রাষ্ট্রদূত বলছেন, আমার সঙ্গে ওই প্রতিমন্ত্রীর দেখাই হয়নি।’

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে ছেলে খেলা। এদের (সরকার) কেউ বিশ্বাস করে না। এরা মনে করে দেশটা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। তারা লুট করবে, চুরি করবে, খুন করবে কেউ কিছু বলতে পারবে না।’

দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের সমস্ত অর্থনীতি রাজনীতি প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রায়ই বলে থাকি, একটি জাতিকে যদি ধ্বংস করতে চাও, তাহলে তার রাজনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস কর, অর্থনীতিকে ধ্বংস কর। সেটাই তারা (সরকার) করছে।’

তারেক রহমান নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলনকারী সব দলগুলোকে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা হবে-এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন? এই সরকার গোটা দেশকে একটা ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলেছে, নর্দমা বানিয়ে ফেলেছে-এটাকে পরিস্কার করতে হলে সবাইকে নিয়েই করতে হবে। বিচার ও প্রশাসন ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। সত্যিকার অর্থে একটা আধুনিক জনকল্যাণমূলক একটা আলোকিত বাংলাদেশ করতে হবে।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে ফোরামের উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম খান আলীমের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক নাজমুল হাসান প্রমুখ।


আরও পড়ুন