ইতিহাস বিকৃতি বা মুক্তিযোদ্ধাকে কটাক্ষ করলেই শাস্তি, গুণতে হবে জরিমানা

মুক্তিযোদ্ধার কথা ।। বিজয় দিবসে সবাই যখন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাচ্ছেন, তখন জামালপুরের মেলান্দহে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন নজরুল ইসলাম নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৬ ডিসেম্বর দুপুরেই মেলান্দহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সারা দিনে এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

কয়েকজন সাধারণ ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া ছিল এমন- ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা মোটামুটি প্রভাবশালী। এই ঘটনায় মামলা হলেও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের সম্ভাবনা খুবই কম।’

মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিজেদের মতো করে রচনা করা হয়েছে। এতে প্রকৃত ইতিহাস চাপা পড়েছে, কিছু ক্ষেত্রে হয়েছে বিকৃত। অবশেষে এ অপসংস্কৃতির অবসান হতে যাচ্ছে।

এখন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করে কথা বললেই যে কাউকেই পেতে হবে শাস্তি, গুণতে হবে জরিমানাও। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ইঙ্গিত করে নেতিবাচক কিছু বললেও এই শাস্তির আওতায় আনা হবে। স্বাধীনতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মনগড়া, বিকৃত ইতিহাস রচনা, প্রচার করলেই মিলবে শাস্তি। এমনই বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে শাস্তির বিধান রেখে সরকার তৈরি করছে একটি আইন।

তখন কোন ধারায় এ ধরনের অপরাধের জন্য মামলা বা বিচারকাজ হবে, তা নিয়ে ভাবতে হবে না। এ আইনের আওতায়ই হবে এ জাতীয় সব ধরনের ঘটনার বিচার।

এরইমধ্যে আইনটির খসড়া তৈরি হয়েছে। খসড়ায় সর্বস্তরের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শসমূহ পর্যালোচনা করে খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরো পর্যালোচনা হতে পারে এই আইনের। চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনের প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। এখন শুধু মন্ত্রিসভায় আইনটি উপস্থাপন এবং পাশ হওয়া বাকি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সর্বসম্মতিক্রমেই আইনটি পাশ হবে। কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা ঘটে আসছে। এতে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা হয়েছে তা হলো, পরবর্তী প্রজন্ম বিভ্রান্ত হয়েছে। এমনকি পাঠ্যপুস্তকেও ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে অহরহ। এছাড়া জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে বিবেচিত মুক্তিযোদ্ধারাও বিভিন্ন কটূক্তির শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে আইন থাকলে এবং তার বাস্তবায়ন থাকলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত না।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তির জন্য আইন করার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।’

তিনি আরো বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ বসানো কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এজন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটাক্ষ করার শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রেখে আইনটি তৈরি করেছে আইন কমিশন। এরপর ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন, ২০১৬’ শিরোনামে তৈরি করা আইনের ধারণাপত্রসহ খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও ড্রাফটিং বিভাগ পর্যালোচনা শেষে আইনের প্রস্তাব গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হয়। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি এ সংক্রান্ত একটি বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি তার প্রস্তাবে বলেন, ‘সংসদের অভিমত এই যে, গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তির জন্য আইন প্রণয়ন করা হোক।’ নয়জন সংসদ সদস্য সংশোধনী দেন এ প্রস্তাবের ওপর। তাদের প্রত্যেকেই প্রস্তাবের আগে ‘অবিলম্বে’ এবং ‘জরুরি ভিত্তিতে’ শব্দটি সংযোজন করার প্রস্তাব করেন। পরে সংসদে আইনটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়।

এ সময় প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘এ ধরনের একটি আইনের অপরিহার্যতা আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি হচ্ছে। এটা রোধে একটি আইন প্রয়োজন।’

আইন তৈরির প্রেক্ষাপট: মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, জনসাধারণকে হত্যাসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক সত্য ঘটনা ছোট করে বা ভিন্ন ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমর্থন করা প্রকারান্তরে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবমাননার শামিল। অনেক দিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সংগঠন, সুশীল সমাজ, অধ্যাপক, আইনজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন পেশা ও আপামর জনগণের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার ও বিকৃতি রোধে খসড়া আইন তৈরি করার অনুরোধ পেয়ে আসার পরই আইন কমিশন খসড়া আইন তৈরির কাজে হাত দেয়।

জাতীয় মুক্তির ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ সৃষ্টির ঐতিহাসিক সত্য ঘটনাসমূহ আজ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ভিত্তি। এসব বিষয় অস্বীকার, খণ্ডিত, আধা-সত্য প্রতীয়মান, বিকৃত করে প্রচার-প্রকাশ বা সমর্থন করা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও অস্তিত্বকে অস্বীকার করার নামান্তর। কমিশন দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ বিষয়ে প্রচলিত আইন, রীতিনীতি, বিচার কার্যক্রম পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গণহত্যাকে অস্বীকার করা বা অন্য কোনোভাবে সমর্থন করা সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ আইনি কাঠামোর মাধ্যমে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ২২টি দেশে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন আছে এবং প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধসহ অন্যান্য অপরাধকে সমর্থন, প্রচার, প্রসার করাকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। ইউরোপের একাধিক দেশে সংশ্লিষ্ট আইনে করা মামলায় একাধিক আসামিকে শাস্তি প্রদানের নজির রয়েছে। দীর্ঘ গবেষণার পর আইন কমিশন এ বিষয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন, ২০১৬-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে।

যা রয়েছে প্রস্তাবিত আইনে : খসড়া আইনে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সত্য বিষয়সমূহের কোনো ধরনের অবমূল্যায়ন, অপব্যাখ্যা, ভুল ব্যাখ্যা, অপপ্রচার, অবনমন, বিকৃতি, অবমাননা, বিদ্বেষ প্রকাশ, মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করা বা প্রচারণা চালানো বা কোনো ধরনের সমর্থন অথবা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসমূহের বিচার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অপরাধসমূহের বিচার দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তির বিধানসহ কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান এবং অপরাধসমূহ তদন্ত ও বিচারের জন্য তুলনামূলক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বিচারককে দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। পৌনঃপুনিক অপরাধের জন্য সাজার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে।

আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত বিচারের (সামারি ট্রায়াল) প্রস্তাব করা হয়েছে। বিচারক মামলাটি আমলে নেওয়ার পর কোনো পক্ষকে সময় না দিয়ে প্রতি কার্যদিবসে শুনানি করে ৪৫ দিনের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করবেন।

আইনে যেসব বিষয়কে অপরাধ বলা হয়েছে : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও বিকৃতিকে সমর্থনকারী উভয় ব্যক্তিই এই আইনের বর্ণিত অপরাধের আওতায় আসবেন।

খসড়া আইনের ৪(১) ধারায় অপরাধের বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে যে, ‘(ক) ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট তারিখ থেকে ১৯৭১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী ঘটনাসমূহ অস্বীকার;

(খ) ১৯৭১ সালের ১ মার্চ তারিখ থেকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যবর্তী ঘটনাসমূহ অস্বীকার;
(গ) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখ থেকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মধ্যবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাসমূহ অস্বীকার;
(ঘ) মুক্তিযুদ্ধের কোনো ঘটনাকে হেয়প্রতিপন্ন করিবার উদ্দেশ্যে দেশি বা বিদেশি গণমাধ্যম বা প্রচারমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার;
(ঙ) সরকার কর্তৃক এ যাবৎকালে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের  ইতিহাস সংক্রান্ত যেকোনো ধরণের প্রকাশনার অপব্যাখ্যা বা অবমূল্যায়ন;
(চ) পাঠ্যপুস্তকসহ যেকোনো মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভ্রান্ত বা অর্ধসত্যভাবে উপস্থাপন;
(ছ) মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা, জনগণকে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ এবং লুটতরাজসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের অবনমন;
(জ) মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত কোনো ঘটনা, তথ্য বা উপাত্ত ব্যাঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন;
(ঝ) মুক্তিযুদ্ধকে জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম ভিন্ন অন্য কোনো নামে অবনমন বা অবমাননা;
(ঞ) ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি দখলদার সশস্ত্র বাহিনী,  বিভিন্ন  সহায়ক  বাহিনী  ও তাহাদের  সহায়ক  বাহিনী,  যেমন : রাজাকার,  আল  বদর,  আল  শামস  ও  শান্তি কমিটি ইত্যাদির বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমের পক্ষে কোনো ধরনের যুক্তি প্রদর্শন বা প্রচার; এবং
(ট) মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, শান্তিবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধকে সমর্থন বা উক্ত অপরাধের বিচার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধকরণ বা এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার।’ এগুলো সবই অপরাধের আওতায় আসবে।

একই ধারার ২ নং উপধারায় বলা হয়েছে, উপরোক্ত অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তির পক্ষে যিনি বা যারা সমর্থন জানাবেন, তিনিও সমানভাবে অপরাধী বলে গণ্য হবেন।

ইতিহাস বিকৃতির শাস্তি : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সাজা হিসেবে খসড়া আইনের ৫(১) নং ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ৪ ধারায় বর্ণিত কোনো অপরাধ করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অন্যূন ৩ (তিন) মাস এবং অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) বৎসর বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে এবং ইহার অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবে।’

একই ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘এই ধারায় উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর কোনো ব্যক্তি পুনরায় এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি পূর্বে যে দণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছিল, কমপক্ষে উহার দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।’

বিচার প্রক্রিয়া সর্ম্পকে যা আছে আইনে : খসড়া আইনের ১০ নম্বর ধারায় এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ দায়রা আদালত, ক্ষেত্রমতো মহানগর দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।  তবে শর্ত থাকে যে, দায়রা জজ, ক্ষেত্রমতো মহানগর  দায়রা জজ তাহার অধীন অন্য কোনো অতিরিক্ত দায়রা জজ বা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের নিকট মামলা বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করিতে পারিবে।

এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ  গঠনের পর ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে আদালত বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত বিধান সত্বেও, উক্ত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন না হইবার কারণ ব্যাখ্যা করিয়া পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিতে হইবে। তবে আরো শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত সময়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থতার সাথে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা  গ্রহণের জন্য আদালত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে আদেশ দিতে পারিবে। বিচার শুরু হইলে উহা শেষ না হওয়া পর্যন্ত  প্রতি কর্মদিবসে একটানা শুনানি চলিবে। আদালত এই  আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত  পদ্ধতিতে সম্পন্ন করিবে এবং এ উদ্দেশ্যে এই আইনে  ভিন্নতর কিছু না থাকিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ অধ্যায়ে বর্ণিত পদ্ধতি, যতদূর প্রযোজ্য হয়, অনুসরণ করিবে।’

Comments are closed.