বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি : উত্তর কোরিয়ার নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ ৮:০০ অপরাহ্ণ

সাইবার হামলার মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার এক কম্পিউটার প্রোগামারের  বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ৮ জুন এ বিষয়ে একটি ফৌজাদারি অভিযোগ দায়ের এবং বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো বিষয়টি প্রকাশ করেছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস।

পার্ক জিন হিয়ক নামের ওই প্রোগ্রামার উত্তর কোরিয়া সরকারের হয়ে কাজ করতো। কোরিয়া এক্সপো ভেঞ্চার (কেইজেভি) নামের পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক বাহিনীর ওই সম্মুখ প্রতিষ্ঠানটির অফিসের শাখা উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি চীনেও রয়েছে। পার্ক ও তার সঙ্গীদের হ্যাকিং গ্রুপটি ‘ল্যাজারাস গ্রুপ’ নামে পরিচিত। এই গ্রুপটি কেবল উত্তর কোরিয়া সরকারের হয়েই নয়, বরং অর্থের বিনিময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের হয়ে কাজ করতো।

জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট পার্কের বিরুদ্ধে কম্পিউটার সংক্রান্ত প্রতারণা ষড়যন্ত্র, অপব্যবহার ও ইন্টারনেট প্রতারণা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পার্ক ও তার গ্রুপ কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ছাড়াও মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট এবং ১৫০টি দেশে প্রায় দুই লাখ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে ওয়ানাক্রাই ভাইরাস দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের কম্পিউটার ব্যবস্থায়ও প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল পার্ক ও তার গ্রুপ। তবে সেটি ব্যর্থ হয়।

এতে বলা হয়েছে, যে পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি করা হয়েছে সেই ‘একই পদ্ধতিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের কয়েকটি ব্যাংকে হামলার ষড়যন্ত্র ও হামলা করা হয়েছে এবং ছিদ্র অন্বেষণকারী এ ধরণের হামলায় কমপক্ষে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার চুরির চেষ্টা করা হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানচিন জানিয়েছেন, ফৌজদারি অভিযোগ ছাড়াও পার্ক ও কেইজেভির বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক অর্থ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ভয়াবহ সাইবার ও সাইবার সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য সম্পত্তি জব্দ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ জারি করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। চুরি যাওয়া এ অর্থ চলে যায় ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে। এই ঘটনার প্রায় একমাস পর ফিলিপাইনের একটি পত্রিকার সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি বাংলাদেশ জানতে পারে।

Comments are closed.

LATEST NEWS