বগুড়ায় স্কুলছাত্রী পাঁচ মাসের অন্তসত্ত্বা, থানায় ধর্ষণ মামলা

এম নজরুল ইসলাম , বগুড়া
সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮ ৮:৫১ অপরাহ্ণ

পরিবারের লোকজন ভেবেছিল, মেয়েটির পেটে বড় ধরণের পাথর বা পানি ধরে ফুলেছে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে গোপন কথাটি জেনে যায় পরিবার। প্রথমে প্রলোভন, এরপর ভয় দেখিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে এক ইউপি সদস্যের ছেলে। লম্পট ধর্ষকও দুই সন্তানের জনক। ভয় দেখিয়ে স্কুলছাত্রীর মুখ বন্ধ করে দেয় ধর্ষক। ঘটনাটি গোপন থেকে যায়। পাঁচ মাসের মাথায় প্রকাশ্যে এসেছে ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী এখন পাঁচ মাসের অন্তসত্ত্বা। গত বৃহস্পতিবার ঘটনা জানাজানি হলে পালিয়ে গেছে লম্পট ধর্ষক।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ঘুঘুমারী শেখপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সারিয়াকান্দি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত লম্পট ধর্ষক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) দুই সন্তানের জনক এবং চন্দরবাইশা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদের ছেলে। থানায় মামলা দায়ের হলেও এখানো ধর্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় থানার ওসি ওবায়দুর রহমান মুঠোফোনে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ ও ধর্ষিতার পরিবার জানিয়েছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ঘুঘুমারী শেখপাড়া এলাকার হলুদ শেখের কন্যা (১২) স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। প্রায় পাঁচ মাস পূর্বে চন্দরবাইশা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) প্রলোভন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে কৌশলে বাড়ির পাশে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। স্কুলছাত্রী কান্না শুরু করলে বিপাকে পড়ে ধর্ষক। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখতে ধর্ষিতাকে বাধ্য করে। ওই স্কুলছাত্রী ভয়ে কাউকে কিছু না বললেও ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় ধর্ষিতার পেট ফুলে ওঠে। শিশুটিকে অসুস্থ ভেবে পরিবারের লোকজন বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসার জন্য বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরিবারের লোকজন জানতে পারে স্কলুছাত্রী পাঁচ মাসের অন্তসত্ত্বা। পরে পরিবারের কাছে ধর্ষণের ঘটনা বলে দেয় ধর্ষিতা। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে চন্দরবাইশা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদের ছেলে লম্পট ধর্ষক জাহাঙ্গীর আলমের (৩৫) বিরুদ্ধে সারিয়াকান্দি থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ঘটনা জানাজানি ও মামলা দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে পালিয়ে গেছে র্ধষক।

এ প্রসঙ্গে থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, ধর্ষক জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য দফায় দফায় অভিযান চলছে।

Comments are closed.

LATEST NEWS