আর মাত্র ৫০ বছর : সুন্দরবনে থাকবে না রয়েল বেঙ্গল টাইগার

ডেস্ক রিপোর্ট , মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ
মার্চ ১৩, ২০১৯ ১০:২৮ অপরাহ্ণ

আর মাত্র ৫০ বছর পর রয়েল বেঙ্গল টাইগার শূন্য হয়ে পড়বে সুন্দরবন। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ‍বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের জাতীয় পশুকে তার আশ্রয়স্থল ছাড়তে হবে।

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের একটি যৌথ দল এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ নামের একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

ছয় হাজার বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা নিয়ে অবস্থিত সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য এটি সর্বশেষ শক্ত অবস্থান স্থল। তবে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের নিম্মানঞ্চলের বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত সুন্দরবনের ৭০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক মিটারেরও কম উঁচু।

এর মানে হচ্ছে, পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তা বাঘের বসবাসের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার ধরনও পাল্টে গেছে। দাবদাহ কিংবা চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণেও বনে বাঘের বসবাসের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

কম্পিউটার সিমুলেশন মডেল ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের দুটি চিত্র তুলে ধরেছে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ।

গবেষণা প্রতিবেদনের সহলেখক ও জেমস কুক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উইলিয়াম লরেন্স বলেছেন, ‘এটি একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণ, যেখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সবচেয়ে বড় অংশের বাস সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের দখল-উভয় উপাদান প্রাণীদের আবাসস্থল ধ্বংসের কারণ বলে আমরা উপসংহার টানতে পারি।’

গবেষণা প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলায় সাগরের উচ্চতা ‍বৃদ্ধি, নোনা পানির প্রবাহ ‍বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবনে ঘাস উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এর ফলে প্রাণীর জন্য কিছু খাদ্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

সুন্দরবনের বিপুল সংখ্যক হরিণ বাঘের প্রধান খাদ্য। তবে ঘাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় হরিণের সংখ্যাও কমছে। খাদ্য সংকটের কারণে বাঘ মানুষের বসতিতেও হামলা চালাতে শুরু করেছে। এর ফলে বাঘ-মানুষের সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়ছে।

এতে বলা হয়েছে, সুন্দরবনের আশেপাশে মানুষের বসতিও বাড়ছে। এর ফলে বিশ্বের সবচয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনটির পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ‘২০৭০ সাল নাগাদ সুন্দরবনে কোনো বাঘ থাকবে না।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া