কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না ‘তা ভাবছেন’
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করার পর তার অন্যতম আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন,
“উনি বলেছেন, এর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি চিন্তা করবেন, ভেবে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তা জানাবেন।”
শিশির মনির, এহসান এ সিদ্দিক, মজিবুর রহমান, মতিউর রহমান আকন্দ ও মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বেলা ১০ টা ৪৮ থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা কামারুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন।
সাবেক ছাত্রশিবির নেতা শিশির মনির বলেন, কামারুজ্জামান তাদের কাছে রিভিউ খারিজের রায়ের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন, তাদের সঙ্গে পরামর্শ নিয়েছেন।
“উনি আমাদের কাছে আইনের বিধি বিধান সম্পর্কে জেনেছেন। দেশে কী নজির রয়েছে জানতে চেয়েছেন। আমরা আইনজীবী হিসাবে যথাসাধ্য জানাতে চেষ্টা করেছি।”
কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না এমন প্রশ্নে শিশির মনির বলেন, “বাকি বিষয়গুলো নিতান্তই তার সিদ্ধান্তের বিষয়। উনি আমাদের কাছে আইনের প্রভিশনগুলো জানতে চেয়েছেন। আমরা তাকে সাধ্যমতো জানিয়েছি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।”
ভেবে দেখার জন্য কামারুজ্জামান কতো সময় নেবেন এমন প্রশ্নে এই আইনজীবী বলেন, “তিনি রিজনেবল সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।…উনি ভাবনার সময় নিয়েছেন, চিন্তার সময় নিয়েছেন, কখন কারা কর্তৃপক্ষকে জানাবেন… কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত জানাবেন।”
এই যুদ্ধাপরাধী ‘শারীরিকভাবে সুস্থ ও মানসিকভাবে বিচলিত নন’ বলে জানান তার আইনজীবী।
ফৌজদারী মামলায় ফাঁসির রায়ের আগে প্রাণভিক্ষার এই আনুষ্ঠানিকতার জন্য ৭ থেকে ২১ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া থাকলেও যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না বলে আগেই জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
গত সোমবার রিভিউ খারিজের রায়ের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আইনে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। আসামি কখন প্রাণভিক্ষা চাইবেন- সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো বিধান নাই। এর আগে কাদের মোল্লার রিভিউ পিটিশন খারিজের রায়ে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার জন্য ‘রিজনেবল সময়’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
“তবে এর মানে এই নয় যে, ৭ দিন বা ১৫ দিন সময় পাবে। জেল কর্তৃপক্ষ এটা তাকে (কামারুজ্জামানকে) জানাবে, জানানোর পর একটি সময় প্রদান করা। সেটা বিবেচনা করবে জেল কর্তৃপক্ষ।”
নিয়ম অনুযায়ী একজন ফাঁসির আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারেন; তবে সেজন্য তাকে অপরাধ স্বীকার করতে হয়। আবেদন পেলে রাষ্ট্রপতি তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেন।
ওই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে অথবা আসামি প্রাণভিক্ষার আবেদন না করলে সরকার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা নেয়।
২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রথম আসামি হিসেবে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের ক্ষেত্রেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে সে সময় কাদের মোল্লা প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা ও নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে ময়মনসিংহের আল বদর কমান্ডার কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সেখানেও তার সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকে।
সর্বোচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য কামারুজ্জামানের আবেদন গত সোমবার খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ।
বুধবার দুপুরে রায়ে বিচারপতিদের সইয়ের পর তা কারাগারে পাঠানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষ ওই রায় পড়ে শুনিয়ে ‘প্রাণভিক্ষা করবেন কি না’ জানতে চাইলে কামারুজ্জামান আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সময় চান।
এর আগে রিভিউ খারিজের দিনই কারা কর্তৃপক্ষের চিঠির প্রেক্ষিতে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।
