মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

সর্বকনিষ্ঠ শিশু মুক্তিযোদ্ধা ইমরান লতিফ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৯০ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

imran freedom fighter 1
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল। খাকি পোশাকে দুইশ মুক্তিযোদ্ধা কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেছে। কুচকাওয়াজে দুইশজন যোগ দিলেও সারা মহকুমার মুক্তিফৌজের সংখ্যা ছিল ছয়শ। এরাই মাদারীপুর মুক্ত করেছেন।

কুচকাওয়াজের সময় সাংবাদিকরা বসে চা খাচ্ছিলেন। এমন সময় বছর দশেকের একটি ছেলে স্টেনগান হাতে নিয়ে এগিয়ে এলো। বলল, আমার নাম মোহম্মদ ইমরান। আমি পাঙ্গাসিয়া স্কুলের ক্লাস ফোরের ছাত্র। পাকিস্তানীরা যখন আসে আমি স্কুলেই ছিলাম। তারপর আমি তিন মাস ধরে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমিও একজন গেরিলা। শত্রুর বাংকার লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছি। আক্রমণ চালিয়ে ক্রলিং করে আবার ফিরে গিয়েছি নিজেদের নিরাপদ ঘাঁটিতে।

ভারতের সাংবাদিক রণজিৎ রায় লিখেছেন, ছেলেটি চমৎকার গেরিলা, গ্রেনেড, বাংকার, ক্রল শব্দগুলো ব্যবহার করেন। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় বাংলা ১৩৭৮ সনের ২৩ পৌষ শনিবারের সংখ্যায় মাদারীপুরের শিশু ইমরানের ছবিসহ মাদারীপুরের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে স্টেনগান কাঁধে ইমরানের একটি ছবিও ছাপা হয়।

একদিন যে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বাকপটু ছিল, ৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর সেই শিশু অব্যক্ত এক যন্ত্রণায় মুষড়ে পড়ে। আগ বাড়িয়ে যে সাংবাদিকদের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরেছিল সেই দীর্ঘ বছর নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন। তাই দেশবাসীতো দূরের কথা, নিজ এলাকার মানুষও তেমন কিছুই জানত না।
)ভারতের সাংবাদিক রণজিৎ রায় পরবর্তীতে বাংলা নামে দেশ গ্রন্থে মাদারীপুরের এই শিশু মুক্তিযোদ্ধা ইমরানের সম্পর্কে লিখেছেন, সম্ভবত এই ইমরানই মুক্তিযুদ্ধের সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা।
imran freedom fighter 2
সময়ের ব্যবধানে সেই সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা একজন পরিপূর্ণ মানুষ। জীবিকা অর্জনের উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন আইনজীবী পেশাকে। মাদারীপুর আদালতে ওকালতির সাথে জড়িত। পুরো নাম ইমরান লতিফ। তার পিতা মরহুম এডভোকেট আব্দুল লতিফ ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কার্যকরী সদস্য।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আসলে আমার সেই সময়ের স্মৃতি অনেকটাই ঝাপসা। তাই আমি এ বিষয়ে কারো সাথে কোন আলোচনা করি না। দশ এগার বছর বয়সী শিশু অনেক সময় বড় মানুষের মত অনেক কাজ করতে পারে। তবে যতই বয়স বাড়ে অতীতে স্মৃতি ধূসর আর ঝাপসা হতে থাকে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার স্মৃতি আজ আমার কাছে সম্পূর্ণ রূপেই ঝাপসা স্মৃতি। তবে পঁচাত্তরে জাতিরজনকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্মৃতিতে স্পষ্ট। সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানতে পেরে সমস্ত দেশবাসীর মত আমার মনেও গভীরভাবে দাগ কেটেছে।

সূত্রঃ গেরিলা ১৯৭১

২৮/১০/২০১৫ইং/ নিঝুম