বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই সাংবাদিক মামুনের মৃত্যু
‘আমার মামুনের জন্য ডাক্তার মেয়ে দেখা হয়েছিল’। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই তার মুত্যু হয়েছে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাংবাদিক মামুনুর রশীদের মা। মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে মামুনের গ্রামের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার তেলকাড়া এলাকায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সাংবাদিক মামুনুর রশীদের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ‘আমার মামুনের বিয়ের জন্য ডাক্তার মেয়ে দেখা হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যে বিয়ের কথাবার্তাও পাঁকাপোক্ত করার কথা ছিল। তার আগেই মামুন চলে গেল।
সাংবাদিক মামুনুর রশিদ বাংলাভিশন ও এশিয়ান টেলিভিশনে কাজ করেছেন। সর্বশেষ একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বিট কাজ করতেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ দিকে নড়াইলের তেলকাড়া গ্রামে মামুনুর রশিদের জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ করেন- প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, একুশে টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক মিরাজ মিজু, মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন সাংবাদিক মামুনুর রশীদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর পর লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় একুশে টেলিভিশনের কার্যালয়ে ও দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মামুনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার অকাল মৃত্যুতে শোক জানান- একুশে টিভির প্রধান সম্পাদক ও সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল, একুশে টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল এ. কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা
মামুনুর রশিদ নড়াইলের কোটাকোল ইউনিয়নের তেলকাড়া গ্রামের রাজ্জাক শেখের ছেলে। চার ভাই বোনের মধ্যে মামুন অবিবাহিত ছিলেন। গ্রামের বাড়িতে এসএসসি শেষ করে ঢাকায় চলে যান মামুনুর রশীদ। এরপর নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে (সেশন ২০০৩-০৪) অধ্যয়ন করেন।
