বরগুনার তালতলীতে ‘শুভ সন্ধ্যা’য় জোৎস্না উৎসব কাল শুক্রবার
বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে ওঠা বরগুনার তালতলী উপজেলার নলবুনিয়ার চরের পিকনিক স্পট শুভ সন্ধ্যার ঝাউবনে জোৎস্না উৎসব কাল শুক্রবার। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দক্ষিণা লের এ দৃষ্টিনন্দন সৈকতে জোৎস্না উৎসব পালিত হবে। এ ঝাউবনের দক্ষিণে তাকালে অথৈ সাগরের ঢেউ আর মাছ ধরার ট্রলার ব্যতীত আর কিছুই দেখা যায় না। সেই খোলা সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঝাউবন। এ বন খোলা বাতাসে স্পর্শ করছে পরম আবেশে। দক্ষিণের খোলা বাতাসের ছোঁয়ায় ঝাউগাছগুলো দুলছে প্রেমিকার উড়ন্ত চুলের মতো। জন্ম থেকেই সমুদ্রের খোলা বাতাস গায়ে মেখে ঝাউগাছগুলো এখন অনেক বড় হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের আছড়ে পড়া ঢেউ আর ঝাউগাছের মাঝখানে শুন্য বালুরাশি। এ যেন দৃষ্টিনন্দন এক সৈকত! সমুদ্রের মৃদু ঢেউ, বালুময় দীর্ঘ সৈকত আর ঝাউবনের সবুজ সমীরণের এ দৃশ্যটি যেন প্রকৃতি প্রেমের একটি উদাহরণ। এই প্রেমময় দৃশ্যপটের নাম “শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত”।
বরগুনার প্রধান তিনটি নদী পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বরের মিলিত জলমোহনায় সৈকতটি দাঁড়িয়ে আছে যৌবনা রূপ নিয়ে। বেলাভূমিটি প্রায় চার কিলোমিটার লম্বা এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। তালতলী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সোনাকাটা ইকোপার্ক সংলগ্ন নলবুনিয়ার চরে এ ঝাউবনটি এখন অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। সীমাহীন বঙ্গোপসাগরতীরের মুক্ত বাতাস আর চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক শোভা যেন এই সৈকতটির দৃষ্টি আকর্ষণের টোপ। সাগরতীরের বালুকণা পর্যটকদের দুই পায়ের অলঙ্কার হয়ে সঙ্গে থাকে যতদূর পা চলে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট টেংরাগিরি এই বেলাভূমির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে আসলে দেখা যাবে, সাগরপাড়ে সবুজের সমারোহে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও পাখির কুহুতান। মৃদু ঢেউয়ের ভালোবাসা পায়ে লাগিয়ে, স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে লাগিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে একেকটি গোধূলি সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখার মুহুর্তটা কোনো পর্যটকের পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। প্রকৃতি প্রেমের এমন লোভে পড়ে গেলে এই স্বর্গে যেতে মন চাইবে বারবার। শুধু সমুদ্র ভ্রমণ কিংবা বালুময় সৈকত দর্শনার্থীর মন ভরাবে তা নয়। সমুদ্রের পাশাপাশি আরো অনেক কিছু দেখার সুযোগ মিলবে এখানে এলেই। আশারচরের শুঁটকি পল্লী, টেংরাগিরি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, সোনাকাটা ইকোপার্কের হরিণসহ বন্যপ্রাণী ইত্যাদি দেখার পাশাপাশি দেখা মেলে মৎসজীবীদের কর্মব্যস্ততা আর সৈকতের বুকে স্থানীয় শিশুদের উচ্ছ্বাস। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বরিশাল বিভাগের সর্বজন স্বীকৃত সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার চেয়ে এই সৈকতের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা কম নয় বরং আরও বেশি। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, আবাসিক হোটেল মোটেল নির্মাণ এবং পর্যটন সুবিধা দিলে বছরজুড়ে পর্যটক মুখর থাকবে এই বেলাভূমি। এখানে নদী সমুদ্রের তাজা মাছ পাওয়া যায় ফকিরহাট বাজারের ছোট ছোট খাবারের হোটেলগুলোতে, যা পর্যটকদের পেট ভরাবে।
বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকদের জন্য সৈকতটি সুসজ্জিত করা হয়েছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় সৈকতটির নাম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কাল জোৎস্না উৎসবে নানা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সহযোগিতা ও সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতাই পারে সৈকতটিকে পর্যটকপ্রেমীদের স্বপ্নপুরীতে পরিণত করতে।