মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

টিটোর স্বাধীনতা, টিটোর ক্লোজআপ ছবি

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ২ বার পঠিত ২ মিনিটের পাঠ

tito-1
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ মনে পড়ে টিটোর কথা । মানিকগঞ্জের ছেলে।সীমান্ত এলাকা থেকে ও আমাদের সঙ্গে ছিল। যতদূর মনে পড়ে আমরা সাভারের শিমুলিয়া গ্রামে যখন ট্রেনিংক্যাম্প খুলে গ্রামের ছেলেদের ট্রেনিং দিতাম তখন থেকেই ও আমাদের সাথে।
tito-2
নভেম্বরের শেষের দিকে মানিক ভাই শহীদ হন মানিকগঞ্জের কাছে চৌদ্দ নভেম্বরের সামনাসামনি যুদ্ধে।আমি সে যুদ্ধে ছিলাম না। ট্রেনিং শেষে সাবুভাই,বাচ্চু ভাই (নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু) শপথ করাতেন। তারপর একটা একটা গ্রুপকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে ছেড়ে দিতেন। তখন টিটো ছিল আমাদের সাথে।
tito-3
একদিন টিটো খুব বিরক্ত করতে লাগলো,ওর একটা ক্লোজ ছবি তুলে দিতে হবে। ও ওর ওকে দেবে। আমি কোনমতেই রাজি হলাম না। এমনিতেই ফিল্ম কম। ফিল্ম কিনতে ঢাকা আসতে হবে। ওকে বুঝালাম দেশ স্বাধীন হোক,তারপর যেমন করে বলবি তোর ছবি তুলে দিব। তারপর তোর ‘ওকে’ প্রেজেণ্ট করিস। কিন্তু টিটোও চলে গেল।
tito-4
সামনাসামনি যুদ্ধে শহীদ হলো চৌদ্দ ডিসেম্বর। ওর কবর সাভার ডেইরি ফার্মের গেটের কাছে। দেশ স্বাধীন হল টিটো তার কথা রাখলো কিন্তু আমি পারলাম না। ওর ‘ও’ কোথায় আছে কেমন আছে জানি না। ওর ক্লোজআপ ছবি আমার কাছে নেই, তবে অপারেশনের ছবি পৌঁছে দিয়ে টিটোর শেষ ইচ্ছাটুকু পূরণ করতে আজও আমার বড় ইচ্ছে হয়। আজো মনে পড়ে সেই কথা “ দে না একটা ছবি তুলে,ও’কে দেব” মনে পড়ে অনেক কথা,টিটোর মতো মানিক ভাইয়েরও একজন ‘ও’ ছিল।

লেখা ও ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ঢাকা উত্তর মুক্তিবাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম স্বপন।

সূত্র- গেরিলা ১৯৭১