মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

নিঝুম দ্বীপে ৩ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে

ডেস্ক রিপোর্ট ৫৮ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে সোমবার ঝড়ের আঘাতে তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এখন এই পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি।

পাঁচটি মাছ ধরার নৌকাসহ নিখোঁজ ২০ জেলেকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলেরা।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. রাকিব জানান, সোমবার সকালে নিঝুম দ্বীপের আদর্শ গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামে আকস্মিক ঝড় আঘাত হানে। এতে দ্বীপের দুই শতাধিক কাঁচা, আধাপাকা ঘর বিধ্বস্ত হয়। এ সময় বিধ্বস্ত ঘর ও উপড়েপড়া গাছের ডালপালার আঘাতে পাঁচ জন আহত হয়। দুপুরে একইভাবে ঝড় আঘাত হানে। এতে শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়। কয়েক শত মণ শুটকি মাছ নষ্ট হয়। 

টর্নেডোর সময় নদীতে পাঁচটি নৌকাসহ নিখোঁজ ২০ জেলেকে সন্ধ্যায় প্রশাসনের লোকজন নদীর মোহনা থেকে উদ্ধার করেছে। ওই দিন সকালে হাতিয়ার তমরদ্দিঘাট থেকে চেয়ারম্যান ঘাটে আসার পথে ধান বোঝাই ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। অন্য ট্রলারের সহযোগিতায় লোকজন নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হয়।

তমরদ্দিঘাটের কোস্টগার্ড অফিসার অনিক জানান, সোমবার সকালে ভাষানচর এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায় সাত নৌ কর্মকর্তাকে বহনকারী স্পিডবোট। পরে ভাটিয়ারি এলাকায় স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে। এরপর তাদের ছয় জনকে চট্টগ্রামে হাসপাতালে ও গুরুতর একজনকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। 

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেরাজ হোসেন জানান, ঝড় ও টর্নেডোর আঘাতে পুরো নিঝুম দ্বীপ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বহু ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ঝড় ও বৃষ্টিতে শুটকি পল্লিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। টর্নেডোর ২৪ ঘণ্টা পরও সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর এ আলম জানান, ঝড় ও টর্নেডোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি জানিয়েছেন। সরকারিভাবে এখনো কোনো বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দ আসলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।