মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

ঘূর্নিঝড়ে বিধ্বস্ত শিবচর : আহত ১০

প্রতিনিধি ৬৭ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

ঘূর্নিঝড়ে মাদারীপুরের শিবচরের বাশকান্দির শেখপুর বাজারের অর্ধ শতাধিক দোকান, ৩টি স্কুল, ২টি মসজিদসহ ২ শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপরে গেছে বিদ্যুতের অসংখ্য খুটি বন্ধ রয়েছে উপজেলাটির বিদ্যুত সংযোগ। আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। অধিকাংশ ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় অনেকেই খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন।
রোববার সকালে ক্ষতিগ্রস্থদের স্থানীয় আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ও বিকেলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রান বিতরন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সরেজমিনে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের উপর দিয়ে ঘূর্নিঝড়টি বয়ে যায়। এতে মুহুর্তেই শেখ বাজারের অর্ধশতাধিক দোকানের চাল উড়ে যায়, আধা পাকা ঘরগুলোর দেয়াল ভেঙ্গে পড়ে। বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ছলেনামা, মৃজারচর ও সিপাইকান্দি বেশ কয়েকটি গ্রামের ২ শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে শেখপুর বাজারের হাজেরা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, ২টি মসজিদ, ৩টি কিন্ডার গার্ডেনসহ মোট চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

অসংখ্য গাছ উপরে পড়ে ঘর বাড়িগুলোর ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের খুটিগুলো উপরে গেছে। ফলে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন রয়েছে শিবচর উপজেলা। অনেক স্থানে গাছের মগডালে ঘরের টিন ঝুলতে দেখা গেছে। ভিটে থেকে চাল উড়িয়ে নিয়ে বহু দুরে। ঘরের টিনের চাল বিদ্যুতের তার গাছের ডালের সাথে আটকে রয়েছে। ঘূর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সারারাত বৃষ্টিতে ভিজে ওই সকল পরিবারের ছোট শিশু ও বৃদ্ধরা অনেকই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা আবার পড়েছেন খাবার সংকটে। তাদের রান্না ঘরও উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ঘরে চাউল-ডাল কিছুই নেই। নেই রান্না করার লাকড়ি।
মাদারীপুর থেকে শিবচর উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগের প্রধান লাইনের প্রায় ৮টি খুটি ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে বিদ্যূৎ সংযোগ দেয়া ২৫টি বিদূতের খুটি ঝড়ে উপড়ে ফেলেছে। এ কারনে শনিবার রাত থেকে শিবচরের ১৯টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভায় বিদ্যূত বিচ্ছিন্ন হয়ে পেড়েছে। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউই। ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়ে একটি বাজারের ৫০টি দোকান ও তিনটি গ্রামের ২শত ঘরবাড়ি লন্ড-ভন্ড হয়ে গেছে। এলাকায় এখনো বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল নোমান ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ৫৬ অধিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সকালেই স্থানীয় আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নগদ টাকা, চাল, ডাল, তেল, লবন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ১ হাজার টাকা , ৩০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে ।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, মাত্র ১০ মিনিটের ঝড়ে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। আল্লাহ রহমত করায় কোন প্রানহানী হয়নি। 

বাশকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার বলেন, ঘূর্নিঝড়ে আমার ইউনিয়নের ৫০টি দোকানঘরসহ ২ শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন খান বলেন, চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশক্রমে দলীয়ভাবে ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ টাকাসহ ত্রান দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিভিতে দেখে এ এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ত্রান মন্ত্রনালয় ও প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাৎক্ষনিকভাবে আমরা নগদ টাকা ও ত্রান দিয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।