মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

স্কুলের ভিতরে নদী, ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস

প্রতিনিধি ৭৪ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

বিগত কয়েক বছর ধরে ভাঙ্গনের মুখে মধুমতি পাড়ের ঘাঘা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি ৩ মাস আগে স্কুলের ভিতরে নদী ঢুকে যাওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ স্কুলের নদীর মধ্যে হেলে পড়া একটি রুম বন্ধ করে দিয়েছে। এই অবস্থায় ৩ রুমের বিদ্যালয়টির অন্য একটি রুমে একাসাথে চলছে ৩য় আর ৫ম শ্রেনীর ক্লাস, শিশু শ্রেনী চলছে ডেবে যাওয়া বারান্দায়। ইতিমধ্যে এই স্কুলের অর্ধেক শিশু শিক্ষার্থী ভয়ে স্কুল ছেড়ে দিয়েছে।

৪র্থ শ্রেনীর সাথি খানম, আজমির, রেহান জানায়, স্কুলটি ভেঙ্গে যাবার ভয়ে অনেকেই এখন স্কুলে আসে না, বাড়ি থেকে স্কুলে আসতে মানা করে। আমরা সবসময়ই ভাবি কখন জানি স্কুলটি নদীতে টেনে নিয়ে যায়। আমাদের পড়া লেখার খুব ক্ষতি হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক নাসরিন পারভীন জানান, স্কুলটি নদীর মাইলখানেক দুরেই ছিলো। গতবছরের ভাঙ্গনের পর স্কুলের একাংশ ৩ ফুট নদীতে ঢুকে যাওয়ায় একটি ক্লাস দেবে গেছে। ঐ ক্লাসটি বন্ধ করে অন্য দুটি রুমে সবগুলো ক্লাস নিতে হচ্ছে।
৪০ বছর ধরে ভাঙ্গন কবলিত মধুমতির তেলকাড়া, করগাতী, ধলইতলা সহ ১০টি গ্রাম। বছরের পর বছর ধরে কয়েকটি স্কুল, শতশত বাড়ি ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও ভাঙ্গন রোধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে প্রায় ২০ টি গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা একবারে বিচ্ছিন্ন। ৩ বছর ধরে তেলকাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীতে  ভেঙ্গে যাওয়ায় তা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ধানের মাঠের মধ্যে হাটু পানিতে বর্ষায় স্কুলে আসতে পারে না শিক্ষার্থীরা। সাড়ে ৩’শ ছাত্রছাত্রী থেকে কমে এখন দেড়’শ, শিক্ষকদের ইচ্ছেমতো উপস্থিতিতে কোনদিন একটি আবার দুটি ক্লাস হয় এই স্কুলে।

টি করগাতী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  ৫ম শ্রেনীর ছাত্র আব্দুল্লাহ জানায়, আমাদের স্কুলটি ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন এই ফাঁকা মাঠের মধ্যে আমরা স্কুল করেছি। এখানে বৃষ্টি হলেই পানি জমে। পুরোনো চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে, নিচে মাটি নেই, নীচ দিয়ে পানি ঢোকে। এর মধ্যে কোনদিন আসি আবার আসি না। 
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বর ও তেলকাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বায়েজিদ বিল্লাহ বলেন, ৪০ বছর যাবৎ আমাদের এই এলাকা ভাঙ্গছে অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সরকারী কোন মহল কেউ কোনো দিন খোঁজ নিতে আসেনি।
সম্প্রতি নড়াইল-০২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি নদী ভাঙ্গন কবলিত এইসব এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ভাঙ্গন কবলিত স্কুল রক্ষায় কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেন। অথচ সংসদ সদস্যের তাগিদ সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড আর ঠিকাদারের গাফিলতিতে মধুমতির ভাঙ্গন থেকে হয়তো এবারও বাঁচানো যাবে না আরেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, “খুলনা জেলার ভুতিয়ার বিল ও বর্নাল-সলিমপুর কোলাবাসুখালী বন্যা নিয়ন্ত্রন, নিস্কাশন ও পূনর্বাসন প্রকল্প (২য় পর্যায়)” এর আওতাভুক্ত ঘাঘা পয়েন্টে ৫কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ২’শ ১০ মিটার এবং ৫কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২’শ মিটার এলাকা স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন কাজ দুটি শেষ হবার কথা।
এই কাজে ৫৫ হাজার জিও ব্যাগ এবং একলক্ষাধিক ব্লক ফেলার কথা থাকলেও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে ১ এপ্রিল। ৩ মাস পরে কাজ শুরু করার কারনে চলতি বর্ষা মৌসুমে কাজ শেষ হবে না, ফলে ভাঙ্গন রক্ষায় এই বাধ কোন কাজে আসছে না।
এই দুটি কাজে কুমিল্লার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মশিউর রহমান চৌধুরীর লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছেন স্থানীয় ঠিকাদার তারিক হাসান। তিনি বলেন, কাজ শুরু করার পরে পাউবো কর্তৃপক্ষ বিনা অযুহাতে আমাদের ১৩ হাজার জিও ব্যগ বাতিল করেছে। চলতি বর্ষা মওসুমে বাধ নির্মান শেষ করা সম্ভব হবে না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

ড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বাধ নির্মানে সময়ক্ষেপনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কিছুদিন দেরীতে কাজ শুরু করেছে। তারা স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী জিও ব্যাগ ব্যবহার না করায় তাদের কয়েক হাজার ব্যাগ বাতিল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের চিঠি ও দেয়া হয়েছে। তারা ঠিকমতো কাজ না করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।