মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

ইলিশ মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা, উপকূলে বিক্ষুব্ধ জেলেরা

মো. খালেদ মোশাররফ সোহেল ২৭ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ

ইলিশের ভরা মৌসুমে টানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরায় নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে দক্ষিণা লের উপকূলে। এ সিদ্ধান্ত শিথিলের দাবিতে উপকূলের দুইটি জেলা বরগুনা ও পটুয়াখালীর জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নেমেছেন। মৎস্যজীবীদের দাবি, এ ভরা মৌসুমে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে রমজান ও ঈদে তাদের অনাহারে মরতে হবে। বাঁচার জন্য প্রয়োজনে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করারও হুমকি দিয়েছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ২০ মে থেকে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড নিয়ে বঙ্গোপসাগরে দেশি-বিদেশি সব ধরনের নৌযান ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মৎস্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন বৃদ্ধির স্বার্থে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা নতুন করে নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। বহু পুরনো ও অকার্যকর এ আইনটি ২০১৫ সালে সংশোধন করে চট্টগ্রাম উপকূলে কার্যকর করা হয়েছিল। ৪ বছর যাবত ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছিল শিথিলভাবে। তখন শুধু ট্রলিং ট্রলার সাগরে যেতে নিষিদ্ধ করা হতো। ইলিশ ছাড়া অন্য মাছ ধরার জন্য এ ট্রলার ব্যবহৃত হয়। এ ট্রলারের জেলেরা ইঞ্জিনের মাধ্যমে সাগরের ৪০ ফুট গভীরের পর জাল ফেলে। এবার আইনটি শতভাগ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে মাছ আহরণে যান্ত্রিক সব ধরনের নৌযান পুরো সাগরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দক্ষিণা লের ইলিশ জেলে ও ব্যবসায়ীরা। তারা শুধু ট্রলিং ট্রলারের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হচ্ছে ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধিতে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত টানা ৮ মাস জাটকা (১০ ইি র কম সাইজের ইলিশ) নিধণ এবং আশি^নের পূর্ণিমার আগে ও পরে টানা ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা পালিত হয়। আসন্ন ইলিশ মৌসুমের মধ্যে ৬৫ দিন সাগরে যেতে না পারলে জেলে ও ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হবেন।

দক্ষিণাঞ্চলে সাগর তীরের জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়া এবং বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশ মোকাম। এ উপকূলে ট্রলিং ট্রলার না থাকায় ৪ বছরে নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব ছিল না। কিন্তু এবার সব ধরনের নৌযানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ইলিশ ট্রলারের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে এক সপ্তাহ যাবত এ উপকূলের মৎস্যজীবীরা বিক্ষোভ সমাবেশ, মৎস্য অফিস ঘেরাও, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ২০ মে’র আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে ইলিশ শিকার ট্রলারগুলো নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে যাবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা তাদের রুটি-রুজির লড়াই। ইলিশের ভরপুর মৌসুম ১ জুলাই শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। ঠিক এ সময়ে ৬৫ দিন সাগরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা মৎস্য খাতের স্বার্থবিরোধী একটি সিদ্ধান্ত।’ গোলাম মোস্তফা বলেন, ইলিশ ধরতে জেলেরা যে জাল (৪ ইি ফাঁকা ব্যাসার্ধ) ব্যবহার করেন তাতে অন্য মাছ ধরা পড়ে না। কলাপাড়া ফিশিং ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি নুরু মাঝি বলেন, দেশের ট্রলার সাগরে যেতে নিষিদ্ধ করার সুযোগে ভারতের ফিশিং ট্রলার বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে। মাছের বংশ বৃদ্ধির জন্য দুই দেশ একসঙ্গে সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করুক। শুধু এ দেশের সরকার করলে তা জেলেরা মানবে না। তিনি বলেন, রমজান ও ঈদের মধ্যে এ নিষেধাজ্ঞায় জেলে পরিবারগুলোকে অনাহারে মরতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ইকো ফিশ প্রকল্পের মৎস্য অধিদপ্তর অংশের প্রকল্প পরিচালক মাসুদ আরা মোমি বলেন, এ আইনটি অনেক পুরনো হলেও ২০১৫ সাল থেকে কার্যকর হয়। সংশোধিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬৫ দিন সাগরে মাছ আহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রকার যান্ত্রিক নৌযান সাগরে নিষিদ্ধ থাকবে। চার বছর যাবত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ব্যবহৃত শুধু ট্রলিং ট্রলারের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে সুফল পাওয়া গেছে। এ বছর থেকে সব যান্ত্রিক নৌযান নিষিদ্ধ করে আইনটি শতভাগ কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের জেলেদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মেরিন) ড. আবুল হাসানাত বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর এতদিন আইনটি শিথিলভাবে প্রয়োগ করে জেলেদের ধীরে ধীরে সহ্য করার সুযোগ দিয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী ও মৎস্য বিভাগের মন্ত্রী আইনের পুরোপুরি বাস্তবায়ন চান। এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের প্রতিমন্ত্রী আশারাফ আলী খান খসরু এমপি ৮ মে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করবেন। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ রয়েছে যাতে ভিনদেশি জাহাজ দেশের জলসীমায় ঢুকতে না পারে। এজন্য ২০ মে থেকে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড কঠোরভাবে সাগর পাহারা দেবে।