মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

১৫ বছর পর সীমান্তেই মা-মেয়ের সাক্ষাৎ

প্রতিনিধি ৬৬ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

পাসপোর্ট না থাকার জেরে গত ১৫ বছরে একবারও দেখা হয়নি মা-মেয়ের। কয়দিন আগে লোকমুখে শুনেছিলেন, আখাউড়া চেকপোস্টে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিটিং রিট্রিট দেখতে নাকি অনেক মানুষ জমায়েত হয়! তখন সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করলে কাঁটাতারের ওপারে থাকা আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করা যায়।

গত মঙ্গলবার চেকপোস্টের পিলার ধরে বৃদ্ধা লক্ষ্মীরানি পালের চোখের পানি যেন আর বাঁধ মানছিল না। তার সঙ্গে রয়েছেন আরো দুই মেয়ে। তারাও থামাতে পারছেন না মাকে। ভারতের পাশে বসে তখন চোখ মুছছেন বোন কানন পাল। বাংলাদেশে থাকা মা-বোনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার অধীর অপেক্ষা তারও।

লক্ষ্মীরানির বাড়ি বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার চুন্টা এলাকায়। ছয় মেয়ে তার। জানা গেছে, তার পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়েছে বাংলাদেশে। কেবল কাননের বিয়ে হয়েছে ভারতের ত্রিপুরায়। 

১৫ বছর ধরে দেখা হয়নি তাদের। লক্ষ্মীরানির পাসপোর্ট নেই। তিনি ভারতে যেতে পারেন না। অন্যদিকে কাননেরও পাসপোর্ট নেই। তিনিও বাংলাদেশে আসতে পারেন না। তবে মোবাইলে কথা হয় তাদের।

এরই মধ্যে লক্ষ্মীরানি শুনতে পান, চেকপোস্টে বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠানের পর মানুষ একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে পারে। কাননকে তিনিই মোবাইল করে খবর দেন। ঠিক হয়ে যায়,  তারা সবাই জড়ো হবেন সীমান্তে। কাননের বাড়ি আগরতলার নন্দননগর এলাকায়। সীমান্তের কাছেই। এদিকে লক্ষ্মীরানির সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা আরো দুই মেয়েও চলে আসেন বোনের সঙ্গে দেখা করার জন্যে। কাঁটাতারের দুই পাশে দুই পক্ষ বসে অপেক্ষা করতে থাকেন, অনুষ্ঠানের পর কথা বলতে পারার আশায়।

দুই পারে তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য! দু’দেশের সীমান্তরক্ষীরা তাদের কসরত দেখাচ্ছেন। তারই ফাঁক দিয়ে আকুল চোখে চেয়ে রয়েছেন মা-মেয়েরা। একে অপরকে  দেখতে দেখতে কিছুক্ষণ পরপর কাপড় দিয়ে চোখের পানি মুছে ফেলছেন।

অনুষ্ঠান শেষ হতেই সীমান্তের পিলার ধরে হু হু করে কেঁদে ফেলেন মা। তা দেখে অন্যদেরও ততক্ষণে চোখে পানি এসে গেছে। কিন্তু বিএসএফ-এর আদেশ না পেলে তো মায়ের কাছে যেতে পারেন না মেয়ে! 

তবে সেখানকার সীমান্তে উত্তেজনা তেমন নেই। দু’দেশের বাহিনীর মধ্যেও সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক। রক্ষীদের উপস্থিতিতেই শেষ পর্যন্ত কাছে এলেন তারা। বিকেলের আলোয় জমে থাকা আবেগের পাহাড় ভাঙল ১৫ বছর পর।