জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি বাবলা, সম্পাদক রুবেল

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। আবারও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল।
রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল শেষে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ কাউন্সিলরদের সম্মতিতে তাদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় দলের নেতা-কর্মীরা নবনির্বাচিতদের করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।
এর আগে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি রওশন এরশাদ, পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা জি এম কাদের, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খাঁন, এস এম ফয়সল চিশতি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন মিলন, মহিলা পার্টির সেক্রেটারি অনন্যা হোসেন মৌসুমী, মহানগর নেতা সুজন দে, শেখ মাসুকুর রহমান প্রমুখ।
সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, ‘পৌর নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে না। নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না।’ পৌর নির্বাচন যাতে গত সিটি নির্বাচনের মতো না হয়, সেজন্য সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।
এরশাদ বলেন, ‘গত সিটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সকাল ৯টার মধ্যে সব ভোট দেওয়া শেষ হয়ে যায়। এবার পৌর নির্বাচনে যাতে এমন অবস্থা না হয়।’
১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের হত্যাকারী ও তার পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ এর নেপথ্য লেখককে খুঁজে বের করার ঘোষণা দেন ওই সময়ের রাষ্ট্রপতি এরশাদ। তিনি বলেন, ‘নূর হোসেনের বুকে লেখা ‘‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’’ লেখাটি বুকে না হয় নূর হোসেন নিজেই লিখেছিল, কিন্তু তার পিঠে কে লিখে দিয়েছিল? আমি ক্ষমতায় আসতে পারলে কে লিখেছিল তাকে খুঁজে বের করব। আর কে তাকে হত্যা করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছিল, তাও খুজে বের করা হবে।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজ নূর হোসেন, ডা. মিলন হত্যা দিবস পালন করা হয়। অথচ সারের দাবিতে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হলো, কানসাটে ২০ জনকে হত্যা করা হলেও তাদের দিবস পালন করা হয় না।’
বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন ‘জাতীয় পার্টির উন্নয়নের যে ইতিহাস আছে, তা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নাই। সেটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। ’
তিনি আরো বলেন, ‘১৫১ আসন নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার কথা বললেই ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। টার্গেট পূরণ করতে হলে সারা দেশে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে হবে।’
জি এম কাদের বলেন, ‘রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আন্দোলন-সংগ্রাম নেই, তবুও মানুষের মাঝে অস্থিরতা এবং অজানা আতংক।