মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খালেদার বিরুদ্ধে আন্দোলনের আহ্বান আ.লীগের

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৯ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

Hanif
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জাতির কাছে ক্ষমা না-চাওয়া পর্যন্ত তার দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই।

এ জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক আব্দুর রাজ্জাকের চতুর্থ মৃতুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আব্দুর রাজ্জাক স্মৃতি সংসদ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তার বক্তব্য সমর্থন করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘হানিফ সুন্দরভাবে কথাগুলো বলেছেন। এই যে বেগম জিয়া শহীদদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রশ্নটা পাকিস্তানের।

‘আর তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তিনি বললেন- বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, বলেই নির্বাচন হয়েছে। আর ইলেকশন হলেই কি প্রধানমন্ত্রী হয়? বঙ্গবন্ধু জানতেন- ক্ষমতা দেবে না। এ ব্যাপারে তার বক্তব্যের মধ্যেই আছে- ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমি বাংলার মানুষের অধিকার চাই।’’

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যে মানুষটি (বঙ্গবন্ধু) যৌবন কাটিয়েছেন পাকিস্তানের কারাগারে। হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। সেই মানুষটি সম্পর্কে মন্তব্য করছেন। তিনি যদি প্রধানমন্ত্রিত্বই চাইতেন, সত্তরের নিবার্চনের পরে তাহলে এক সেকেন্ড লাগত।’

তিনি বলেন, ‘আজকে খালেদা জিয়া যে ভাষায় কথা বলছেন, এটা পাকিস্তানের ভাষা। পাকিস্তান বলছে- মুক্তিযুদ্ধে এত লোক মারা যায় নাই। খালেদা জিয়াও বলছে এত লোক মারা যায় নাই। পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে বলে বিচার সঠিক হচ্ছে না, খালেদা জিয়াও বলছেন বিচার সঠিক হচ্ছে না। সুতরাং তিনি পাকিস্তানি।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘যখন দেখছে নতুন প্রজম্ম মুক্তিযুদ্ধে আবার উজ্জীবিত হইছে, তখন উনি আবার মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লাইগা সংখ্যাতত্ত্ব বিশারদ হইয়া গেছেন। আসলে পাকিস্তান বইলা দিচ্ছে তাকে এটা বলতে।’

শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ছাত্রসমাজসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শহীদদের প্রতি যে কটাক্ষ ও অবমাননা করেছেন, এ জন্য আসুন আজকে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করি। তিনি জাতির কাছে ক্ষমা না-চাওয়া পর্যন্ত, তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় না করা পর্যন্ত, বেগম জিয়ার যাতে এই দেশে রাজনীতি করতে না পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেটা পাকিস্তানি সরকার করেছে, পাকিস্তানিরা বলছে- মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ হয় নাই। কারণ তারা তাদের অপরাধটাকে কমিয়ে দেখানোর জন্য এই কথা বলার চেষ্টা করছে। আজকে সেই পাকিস্তানের সাথে সুর মিলিয়ে বেগম জিয়াও পাকিস্তানের বক্তব্য জাস্টিফাই করার বলছেন- মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা সঠিক নয়, এটা নিয়ে বিতর্ক আছে।

‘এদের উদ্দেশ্য একটাই- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিতর্কিত করা। বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ভুঁইয়া মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও ডাকসুর প্রাক্তন ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিশ্বশান্তি পরিষদের সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, পীর হাবিবুর রহমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।

সভা পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগ প্রাক্তন সভাপতি বাহালুল মজনুন চুন্নু।