মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

খালেদার বক্তব্যে শহীদদের অসম্মান করেননি : ফখরুল

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ৬৪ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

khaleda glass

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাত্তরের শহীদদের অসম্মান করেননি বলে দাবি করেছেন তার দলের নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, “মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের তালিকা ও পরিচিতি আজ পর্যন্ত না থাকায় স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ বিভিন্ন শক্তি ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও বিতর্ক উপস্থাপন হয়ে থাকে।

“বিভিন্ন গ্রন্থে শহীদদের বিভিন্ন রকম সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। দেশনেত্রী (খালেদা) সেই কথাই তুলে ধরেছেন তার বক্তব্যে।”

গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় খালেদা বলেন, “আজকে বলা হয়, এতো লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানারকম তথ্য আছে।”

তার এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। বক্তব্য প্রত্যাহার করে খালেদাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এক আইনজীবী উকিল নোটিস পাঠিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে বলেন এবং খালেদার নামে আদালতে দুটি মামলাও করা হয়।

বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে তার বাসা ঘেরাও করতে গিয়ে মঙ্গলবার পুলিশের বাধায় গুলশান দুই নম্বর মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পরে রাতে দলীয় প্যাডে এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, “ওই ভাষণে দেশনেত্রী (খালেদা) স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান শহীদদের সংখ্যা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক রয়েছে, রেফারেন্স হিসেবে সে কথার উল্লেখ করেছিলেন।”

এর মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া শহীদদের অসম্মান নয়, বরং তাদের পরিচিতি ও প্রকৃত সংখ্যা বের করার প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে দাবি করেন ফখরুল।

“তাদেরকে যাতে উপযুক্ত সন্মান প্রদর্শন করা যায়। এই কথা বলার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি কেনো ধরনের অসম্মান প্রদর্শন করার প্রশ্নই আসে না,” বলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার বক্তব্যের ‘অপব্যাখ্যা’ করে ক্ষমতাসীনরা অপরাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

“দেশনেত্রীর প্রদত্ত ভাষণের একটি অংশ বিকৃত ব্যাখ্যা করে ক্ষমতাসীন মহল অপপ্রচার ও বিভিন্ন মতলবী কার্যক্রম শুরু করেছে। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে নাই, বরং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সাজিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেছে, যারা প্রকৃত শহীদদের তালিকা ও পরিচিত সংরক্ষণের মাধ্যমে তাদের সম্মান্বিত করতে চায় না, তারাই দেশনেত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত ব্যাখ্যা করে অপরাজনীতিতে মেতে উঠেছে।”

ক্ষমতাসীনদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাসী দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, “মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম প্রতিষ্ঠিত বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধে বিশ্বাসী এদেশের সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। রণাঙ্গনের অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

“মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশনেত্রী (খালেদা) নিজেও তার শিশু সন্তানদের নিয়ে দুঃসহ বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই- মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান দেওয়ার ব্যাপারটি এই দলকে কারও কাছ থেকে শিখতে হবে না।”

ফখরুল বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার উদ্দেশ্যে প্রথম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

“তিনিই (জিয়াউর রহমান) মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহের সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেন। তার নির্দেশে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোর নামকরণ করেছিলেন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নামে।”