মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

করোনার খবর শুনে মাস্ক কেনার হিড়িক!

প্রতিনিধি ৮০ বার পঠিত ৪ মিনিটের পাঠ

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষ। এদের মধ্যে দুজন ইতালিফেরত। এদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এ তিনজন ছাড়া আরও দুজনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে যেন মাস্ক কেনার হিড়িক পড়ে যায়। ফার্মেসি, স্টেশনারি দোকান এমনকি ফুটপাতের দোকানেও মাস্ক কিনতে এক ধরনের মাতামাতি সৃষ্টি হয়। হঠাৎ মাস্কের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত দামে এসব মাস্ক বিক্রি করেন কিছু অসাধু দোকানি। অনেকটা আতঙ্কের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামেই এসব মাস্ক কিনছেন সাধারণ মানুষ।

যদিও প্রেস ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে রেখে লক্ষণ-উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তারা বর্তমানে ভালো আছেন। এ মুহূর্তেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রাস্তাঘাটে চলাফেরায় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।

তবে সারাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজধানীর ফুটপাতে মাস্ক বিক্রি করা একটি দোকানে দেখা যায়, মাস্ক কিনতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভিড়। সবাই মাস্ক কিনছেন নিজের জন্য এবং পরিবারের সদস্যদের জন্যও।

ফুটপাতের মাস্ক বিক্রেতা বলেন, হঠাৎ করে মাস্ক বিক্রি বেড়ে গেছে। সবাই মাস্ক কিনছে তিন-চারটা করে। তাই নিমেশেই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন খালাতো ভাইকে দোকেনে রেখে আমি আরও মাস্ক কিনতে মোকামে যাচ্ছি। আগের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে এসব মাস্ক বিক্রি করলাম, কারণ মোকামেও এসবের দাম বেড়ে গেছে।

সুযোগে সংকটের কথা বলে আবারও একই কাজ করছে ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা। ‘জোগান নেই অজুহাতে’ বেড়েছে মাউথ মাস্কের, অ্যান্টি ডাস্ট মাস্কের (সার্জিক্যাল মাস্ক) দাম। রাস্তায়, ফুটপাতে, বিভিন্ন অনলাইন শপে মাস্ক বিক্রি হলেও ফার্মেসিগুলোতে মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারের মানসম্মত সব মাস্ক চীন থেকে আমদানি করা হয়। শুনেছি বর্তমানে চীন নিজেদেরই চাহিদা মেটাতে পারছে না। এ কারণে বাংলাদেশেও এই মাস্কের আমদানি কমেছে। একই অবস্থান অনলাইনের কেনাকাটার ওয়েবসাইট ও পেজগুলোতে।

রাজধানীর কয়েকটি ফার্মেসি ও অনলাইন শপিং ওয়েবে দেখা গেছে, ডিস্পোজেবল নন-ওভেন ফেব্রিক মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়, কটন মাস্ক ১২০ টাকা, স্পঞ্জ অ্যান্টি ডাস্ট মাস্ক ৫০ টাকা, এন-৯৫ (৮২১০) মাস্ক ২৫০ টাকা, এন-৯৫ (৮১১০এস) ১৮০ টাকা, পিএম-২.৫ মাউথ মাস্ক ১২০ টাকা, সাওমি এয়ারপপ থ্রি-সিক্সটি ডিগ্রি অ্যান্টি ফগ মাস্ক ৩৫০ টাকা, সাওমি স্মার্টলি ফিল্টার মাস্ক ৪৫০ টাকা এবং সাওমি পিএম-২.৫ লাইট ওয়েট মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ১৭৫০ টাকা। ক্রমান্বয়ে এসবের দাম আরও বাড়তে পারে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জনে। এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৬০ হাজার ১৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বিশ্বব্যাপী ১০৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।