বরগুনায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘিঞ্জি মাছবাজার এবং কাঁচাবাজার
বরগুনার মাছবাজারে ঢুকতেই চোখে পড়বে- ঠাসাঠাসি করে একের গায়ের সাথে অন্যের গা ঘেঁষাঘেষি করে মাছের দামদর করতে ব্যস্ত শতশত ক্রেতা। আর এ কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণে বরগুনার মাছবাজার এবং সরু কাঁচাবাজারকে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এক্ষেত্রে বরগুনার বর্তমান মাছবাজার এবং কাঁচাবাজারকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তরের তাগিদ দিচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব অ্যাড. মুনির জামান বলেন, ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঠেকাতে বরগুনার মাছবাজার এবং কাঁচাবাজার যত দ্রুত সম্ভব একটি খোলা জায়গায় স্থানান্তর করা যেতে পারে। সেটা হতে পারে সার্কিট হাউজ ময়দান, জেলা স্কুল মাঠ অথবা সরকারি কলেজ মাঠ। অন্যথায় কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বাড়তেই থাকবে।’
বরগুনা জেলা এনজিও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব মৃধা বলেন, ‘যেহেতু এখন রাস্তাঘাট সবই ফাঁকা সেহেতু মাছ বাজারের প্রতিজন বিক্রেতাকে (সদর রোডের) মূল সড়কের এক পাশে ২০ ফিট পরপর বসানো যেতে পারে। একইভাবে মূল সড়কের অপর পার্শ্বে সব্জি বিক্রেতাদের ২০ ফিট পরপর একইভাবে বসানো যেতে পারে। এতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।’
এ বিষয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ বলেন, ‘প্রয়োজনে বরগুনা পৌরসভা থেকে খাগদন ভাড়ানী খালের ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশকে এই আপদকালীন সময়ে মাছ এবং কাঁচাবাজার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মানুষ যথাযথ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারবে।’
জাকির হোসেন মিরাজ আরও বলেন, ‘ভোররাতে যখন বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ কিংবা কাঁচাবাজার বরগুনার আড়তে এসে পৌঁছায় তখন সেখানেও আড়ৎদার, পাইকার ও বিক্রেতাদের একটা বড় জটলা তৈরি হয়। এটিও খোলা জায়গায় করতে পারলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কিছুটা হলেও এড়ানো যেত।’
এ বিষয়ে তরুণ আইনজীবী জুনায়েদ জুয়েল বলেন, ‘বাজারের সময়সূচিটা সকাল নয়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত না করে সকাল সাতটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত করলে আরও ভালো হয়। কারণ স্বভাবগতভাবেই এক একজন মানুষ ঘুম থেকে এক এক সময় ওঠেন। তাই ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সময়েই বাজার করতে আসবেন। এতে এক সময়ে বাজারে ভিড় হবে না।’
এ বিষয়ে, বরগুনার তরুণ রাজনীতিবিদ আরিফুর রহমান মারুফ বলেন, ‘আজ আমি বরগুনার তরকারি বাজারে গিয়েছিলাম। সেখানে এত মানুষের ঠাসাঠাসি এবং উম্মুক্তভাবে কোনো শিষ্ঠাচার না মেনে মানুষ যেভাবে হাঁচি ও কাশি দিচ্ছে, তাতে বরগুনার মাছ বাজার ও সব্জি বাজারেই হবে বরগুনার জন্য সর্বোচ্চ বিপদের কারণ।’
এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘বরগুনার মাছ বাজার এবং কাঁচাবাজারের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই আমাদের কাছে তথ্য এসেছে। আমরা এ বিষয়ে ভাবছি। আমরা প্রথমে সার্কিট হাউজ মাঠকে নিয়ে ভেবেছিলাম। কিন্তু সেখানে জরুরি হেলিপ্যাড থাকায় এবং আশপাশে সার্কিট হাউজসহ জেনারেল হাসপাতাল থাকায় ময়লা সরানোর বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়বে ভেবে আমরা বর্তমানে জেলা স্কুলের মাঠ নিয়ে ভাবছি।’বাজারের সময়সূচির বিষয়টিও তিনি সভার মাধ্যমে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।