মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই হবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা

প্রতিনিধি ৮৫ বার পঠিত ৩ মিনিটের পাঠ

অবশেষে বিতর্কের মুখে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো কিশোরগঞ্জ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল নয়, নব নির্মিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হবে। 

রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান সভা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে শুধু করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। এর পরই শুরু হয় বিতর্ক। 

প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সদ্য চালু হওয়া আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বাদ দিয়ে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না থাকা জেলা সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্তে মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। 


এ দিকে সরকারের ঘোষিত লকডাউন না মেনে রোববার বিকেলে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা না দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। মেডিকেল কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যরা অংশ নেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার পর্যন্ত (১২ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জে একজনের করোনা ভাইরাসে মৃত্যু এবং আরও ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জনের নমুনা সংরক্ষণ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত উপসর্গ থাকা ১৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১ জনে দেহে কোভিড-১৯ এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 

গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৪ জনসহ এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থেকেছেন ১৮৪৬ জন। এখনও কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৬৬ জন। এ অবস্থায় জেলায় ব্যাপকহারে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কর মধ্যে জেলাবাসী। এ অবস্থায় করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা কোখায় হবে-এ নিয়ে দেখা দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।

জানা গেছে, করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে কালেক্টরেট সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আগামী তারিখ থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ জন্য মেডিকেলে আলাদা করোনা ইউনিক করার সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে কমিটির উপদেষ্টা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, কমিটির সদস্য সচিব সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর এড. শাহ আজিজুল হক, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. সৈয়দ মঞ্জুরুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, কিশোগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, জেলা বিএমএ সম্পাদক ডা. আব্দুল ওয়াহাব বাদল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

–সময় টিভি