বরগুনায় দুই ইউপি সদস্যের আধিপত্যের লড়াই, প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর
বরগুনায় দুই ইউপি সদস্যের আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে জড়িয়ে সাইফুল ইসলাম সবুজ নামের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং-এর এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১০ জন। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌমুহুনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল ইসলাম সবুজ (২৫) একই এলাকার ফারুক পহলানের ছেলে। সে বরগুনা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে পাস করে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংএ পড়ত। সাম্প্রতিক লকডাউনের কারণে সে বরগুনা ফিরে এসেছিল।
জেলা পুলিশ সূ্ত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বারী আজাদ স্বপন ওরফে স্বপন (৪২) মেম্বার এবং বর্তমান ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ ওরফে রাজা মেম্বারের (২৯) দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক এলাকাবাসী জানান, ইউপি সদস্য হওয়ার আগে থেকেই রাজু আহমেদ ওরফে রাজা মেম্বার এলাকায় একটি বাহিনী তৈরি করে নানাভাবে স্থানীয় এলাকাবাসীকে হয়রানি করে আসছিল। তা ছাড়া তার বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যই নেশাগ্রস্ত এবং ইয়াবা কারবারি। অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য বারী আজাদ স্বপনও একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার সকালে ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রায়ভোগ হিন্দুপাড়ার একটি প্রাইমারি স্কুলের বিপরীতে স্বপন মেম্বার সমর্থিত কয়েকজন যুবক জুয়া খেলতে বসলে সেখানে রাজা মেম্বারের লোকজন গিয়ে তাদের মারধর করে এবং থানায় ফোন দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।
বরগুনা থানার এসআই হেলালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জুয়ার আসর থেকে কয়েকজন যুবককে ধরে ইউএনও অফিসে নিয়ে আসলে বরগুনা সদর উপজেলার ইউএনও মাসুমা আক্তার তাদেরকে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে আড্ডা দেওয়ার অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেন।
ইউএনও অফিস থেকে আটককৃতরা এলাকায় ফিরে বিকেল ৫টার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য স্বপন মেম্বারের নেতৃত্বে চৌমুহুনী বাজারে রাজা মেম্বারের লোকজনকে মারতে যায়। এ সময় তারা রাজা মেম্বারের লোক ইউসুফকে পেয়ে তাকে মারধর করে।
এর পরই রাজা মেম্বারের লোকজন সংগঠিত হয়ে স্বপন বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় রাজু আহমেদ ওরফে রাজা মেম্বারের লোকজনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের কোপে সাইফুল ইসলাম সবুজ গুরুতর জখম হয় এবং আহত হয় অন্তত ১০ জন। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলাম সবুজকে হাসপাতালে নিতে চাইলে তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আটকে রাখে রাজু আহমেদ ওরফে রাজা মেম্বার। পরে অনেক সময় ধরে রক্তক্ষরণের ফলে সাইফুল ইসলাম সবুজের মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুল ইসলাম সবুজকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। আহত ১০ জনকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাদের মধ্য থেকে গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জেলা পুলিশের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, এ ঘটনায় নিহত সাইফুল ইসলাম সবুজের পিতা ফারুক পহলান বাদী হয়ে ১৪ জনকে এবং অজ্ঞাতনামা আো তিন-চারজনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার পর ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে রাজু আহমেদ ওরফে রাজা মেম্বার (২৯), মো. ছাহাবিল ওরফে কাবিলাসহ (২৫) মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যান্য অসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।