বিলীন হয়ে গেলো চরাঞ্চলের একমাত্র বাতি ঘর
মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের বাতি ঘর হিসেবে পরিচিত নুরুদ্দিন মাদবর এসএডিপি উচ্চ বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্কুলটি ছিলো চরাঞ্চলের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে স্কুলটি হেলে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে গিয়ে স্কুলটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রাতেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নে নদী ভাঙনের ব্যাপকতা বেড়েছে। চার শতাধিক ঘরবাড়ি কোনোমতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙনে বন্দরখোলা ইউনিয়নের চরের মানুষের শিক্ষার বাতিঘর বলে খ্যাত নুরুদ্দিন মাদবর এসএডিপি উচ্চ বিদ্যালয়টিও রেহাই পায়নি। ঝুঁকিতে রয়েছে কাজীর সুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কাজীর সুরা কমিউনিটি ক্লিনিক, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু স্থাপনা।
এদিকে চরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বাড়ি ঘরে পানি ওঠায় অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। নিম্নাঞ্চলের মানুষের জন্য ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সহস্রাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
মাদারীপুরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ, কুমার ও পালরদী নদী। এসব নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
পানি বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙনে গৃহহারা পরিবারগুলো বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে না পেরে ঘরে মাচান বেঁধে থাকছেন। পানির তোড়ে বিভিন্ন এলাকার সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।’