মূল সংবাদে যান
২৪ আগস্ট ২০২৬

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আসছে নতুন নির্দেশনা

ডেস্ক রিপোর্ট ৮১ বার পঠিত ৫ মিনিটের পাঠ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন‌্য মাস্ক পরিধান, হাত পরিষ্কার ও থার্মোমিটার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। আগের মতো প্রতিদিন সব বিষয়ের ক্লাস হবে না। কোন দিন কোন বিষয়ে ক্লাস হবে তা শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সদস্যরা নির্ধারণ করবেন।

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় খোলার আগে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে এমন ৫০টির বেশি নির্দেশনা জারি করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব নির্দেশনা মেনে পাঠদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস করানো হবে, সে বিষয়ে তিনটি ক্যাটাগরিতে ৫০টির বেশি নির্দেশনা থাকবে। করোনাকালীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ‌্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এসব নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম হোসেনের সভাপত্বিতে একটি সভা হয়েছে। সেখানে খসড়ায় কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। পরে আরেকটি সভা করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা করে এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা শুরু করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করা হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করে আমরা করোনা পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় পরিচালনায় দিকনির্দেশনা তৈরি করছি। সবাইকে নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন আগে থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা হবে। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয় ও প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস পরিচালনা করা হবে, সেসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

খসড়া নির্দেশনায় দেখা গেছে, বিদ্যালয় খোলার সরকারি নির্দেশনা আসার পর ন্যূনতম ১৫ দিন আগে শিক্ষক, কর্মচারী এবং এসএমসির সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ক্লাস উপযোগী করে বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন করতে হবে। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুলের গেটে বা প্রবেশের স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে প্রবেশ করবে। থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো হবে।

পাঠ্যক্রম পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগের মতো ক্লাসে এক বেঞ্চে তিন বা চারজন বসতে পারবে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এক বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থীকে বসাতে হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আগের মতো আর সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হবে না। একটি স্তরে সপ্তাহে দুই বা তিন দিন অথবা প্রতিদিন দুই-তিনটি ক্লাস নেওয়া হবে।

বিদ্যালয় চলার সময়ের করণীয় বিষয়ে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরতে হবে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। শিক্ষার্থীরা ভিড় করে খেলাধুলা, আড্ডা দিতে পারবে না। সামাজিক দূরত্ব রেখে হাঁটাচলা করতে হবে। নোটিস বোর্ডে শিক্ষক, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যোগাযোগ নম্বর লিখে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কেউ অসুস্থ হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইবে না। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা গাইডলাইন তৈরি করেছি। বিদ্যালয় খোলার ঘোষণা এলে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ের জন্য তৈরি দিকনির্দেশনাগুলো সকলের কাছে পৌঁছে দিতে ফেসবুক, ওয়েবসাইট, গণমাধ্যমসহ সব মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। এতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহী হবেন। করোনাকালীন বাৎসরিক উন্নয়ন বাবদ অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে নির্দেশ দেওয়া হবে।’